ভাকুর্তা ইউনিয়নে ২৮ লক্ষাধিক টাকার উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন

ঢাকার সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নে ২০১৮-১৯ ইং অর্থবছরে বিভিন্ন প্রকল্পে আসা সরকারী বরাদ্দের ২৮ লক্ষাধিক টাকার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সাভার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নিকট থেকে তথ্য অধিকার আইনে এসংক্রান্ত প্রাপ্ত তথ্যের সরেজমিন যাচাইকালে বিষয়টি সামনে আসে।

২০১৮-১৯ ইং অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি.আর-সোলার) সাধারণ কর্মসূচির ১ম পর্যায়ে মোট ৩টি প্রকল্পে সরকারী বরাদ্দ হিসেবে ১,৩৬,৬৮৮ টাকা আসে। বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো হলো- লুটেরচর ব্রীজ সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে স্ট্রীট লাইট স্থাপন (৪৫,৫৬২ টাকা), লুটেরচর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন মাদবরের বাড়ীর মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপন (৪৫,৫৬২ টাকা) এবং ভাকুর্তা ইউপি কার্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপন (৪৫,৫৬৪ টাকা)। এছাড়া একই অর্থবছরে, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি.আর- উন্নয়ন) সাধারণ কর্মসূচির ১ম পর্যায়ে শ্যামলাশী টোটালিয়াপাড়া খেয়াঘাটের রাস্তা সংস্কার কাজটি ১,৩৯,৪৭৭ টাকা সরকারী বরাদ্দ দ্বারা সম্পন্ন হয়।

গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা-সোলার) সাধারণ কর্মসূচির ১ম পর্যায়ে মোট ৩টি প্রকল্পে ১,৭৬,৮২৭ টাকা সরকারী বরাদ্দ আসে। বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো হলো- চুনারচর ইমান আলীর বাড়ীতে সোলার প্যানেল স্থাপন (৫৮,৯৪৯ টাকা), মুশুরীখোলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সোলার প্যানেল স্থাপন (৫৮,৯৪৯ টাকা) এবং বাহেরচর শাহ সাহেব বাড়ীর মসজিদ মাদ্রাসায় সোলার প্যানেল স্থাপন (৫৮,৯২৯ টাকা)। অপরদিকে, এই অর্থবছরে কাবিটা-উন্নয়ন সাধারণ কর্মসূচির ১ম পর্যায়ে কান্দিভাকুর্তা মেইন রোড হতে ফজলুল হক সাহেবের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজটি ৫.০১১ মেট্রিক টন খাদ্যশস্যের (আনুমানিক ১,৭৫,৩৮৫ টাকা) বিপরীতে সম্পন্ন হয়।

২০১৮-১৯ ইং অর্থবছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী (ইজিপিপি) ২য় পর্যায়ে মোট ৯টি প্রকল্পে ২৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা সরকারী বরাদ্দ আসে। এগুলোর ভিতরে- হারুরিয়া কালু মিয়ার বাড়ী হতে নালিয়াশুর চকের আনোয়ার উকিলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজটি ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ রহমত আলী সরকারের তত্বাবধানে মোট ৩০ জন শ্রমিক দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে ৪০ দিনে শেষ করে। এই প্রকল্পে সরকারী বরাদ্দ ছিলো ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।

চরতুলাতলি বিল্লাল ফকিরের মাজার হতে কালাই সাধুর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন কাজটি ১,২ ও ৩ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য কানিজ ফাতেমা শিল্পী ও ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আকবর হোসেন এর যৌথ তত্বাবধানে ৩০ জন শ্রমিক দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে মোট ৪০ দিনে শেষ করে। এখানে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা সরকারী বরাদ্দ ছিলো।

ফিরিঙ্গিকান্দা আফসারের বাড়ী হতে নদীর পাড় পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজটিতে সরকারী বরাদ্দ আসে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাজী মোঃ দেলোয়ার হোসেনের তত্বাবধানে ৩০ জন শ্রমিক দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে মোট ৪০ দিনে শেষ করে।

কাইশারচর খালপাড় থেকে লেহাজউদ্দিনের জমি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজটি ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুর রশিদ এর তত্বাবধানে ৩২ জন শ্রমিক দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে মোট ৪০ দিনে শেষ করে। এই প্রকল্পে সরকারী বরাদ্দ আসে ২ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা।

খাগুরিয়া জাহাঙ্গীরের বাড়ী হতে বটতলা আনু মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজটি সরকারী বরাদ্দ হিসেবে আসা ২ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকায় ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আঃ আজিজ মিয়া রতন মোট ৪০ দিনে দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে ৩২ জন শ্রমিক দিয়ে শেষ করেন।

কান্দিভাকুর্তা দুলাল হাজির বাড়ীর সামনের রাস্তাটি ৩২ জন শ্রমিক দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে মোট ৪০ দিনে শেষ করেন। ২ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা সরকারী বরাদ্দ নিয়ে প্রকল্পটির তত্বাবধায়ক ছিলেন সংরক্ষিত (৪,৫,৬) নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রোজিনা আক্তার ও ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ মাজহারুল ইসলাম।

মোগড়াকান্দা আলী আকবরের বাড়ী হতে পাঁচুলী মৌজা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজে সরকারী বরাদ্দ আসে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। ৭ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য হাজী মোঃ জাকির হোসেনের তত্বাবধানে প্রকল্পটি মোট ৪০ দিনে ৩০ জন শ্রমিককে দৈনিক ২০০ টাকা মজুরি দিয়ে সম্পন্ন হয়।

শ্যামলাশী ভাড়ালিয়াপাড়া সফর উদ্দিনের বাড়ী হতে কালাচাঁন কোম্পানির জমি ভায়া হাসেমের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন কাজটি ৮ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ জাকির হোসেনের তত্বাবধানে মোট ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা সরকারী বরাদ্দ দিয়ে ৩০ জন শ্রমিককে দৈনিক ২০০ টাকা মজুরি দিয়ে ৪০ দিনে সম্পন্ন হয়।

ইজিপিপি’র সর্বশেষ প্রকল্পটি হলো- শ্যামলাশী বাহেরচর জমির হাজীর মসজিদের মোড় হতে আলীর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন। এই প্রকল্পটি সংরক্ষিত (৭,৮,৯) নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহানাজ আক্তার ও ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য হাজী মোঃ ইয়াসিন মিয়ার যৌথ তত্বাবধানে ৫০ জন শ্রমিককে
দৈনিক ২০০ টাকা মজুরি দিয়ে মোট ৪০ দিনে সম্পন্ন হয়। এ প্রকল্পে সরকারী বরাদ্দ ছিলো ৪ লক্ষ টাকা।

সাভার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ একরামুল হক জানান, নির্দিষ্ট সময়সীমায় এই ইউনিয়নে ২০১৮-১৯ ইং অর্থবছরে আসা সরকারী বরাদ্দের টাকায় টি.আর, কাবিটা ও ইজিপিপি প্রকল্পগুলো সরকারী বিধি মেনেই বাস্তবায়িত হয়েছে।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর