স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘আপনারা জানেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাক না দিলে পুলিশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে না। এই বিষয়ে বুয়েট প্রশাসন আরেকটু কেয়ারফুল থাকলে হয়তো আবরার হত্যাকাণ্ড ঘটতো না। ভবিষ্যতে প্রশাসন ছাত্রদের প্রতি আরও নজর দেবে,দায়িত্ববান হবে বলে আশা করি।’
শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলের নবনির্মিত প্রধান ফটক উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন,‘আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের প্রায় সবাইকে আমরা শনাক্ত করেছি ও ধরেছি। এ পর্যন্ত ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন ১৬৪ থানায় জবানবন্দি দিয়েছে। আমি আগেও বলেছি, আজও বলছি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এ মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে। আশা করছি তদন্ত সংস্থা দ্রুত মামলা তদন্ত সম্পন্ন করবে।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মেধাবী ছাত্র যারা কিনা আমাদের ভবিষ্যৎ, যে প্রজন্মকে নিয়ে আমরা অহঙ্কার করি, এ ধরনের ঘটনায় যাতে তারা হারিয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এমন অনেক ঘটনাই ঘটেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমরা সনি হত্যাও দেখেছি। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডটি সবার হৃদয়ে দাগ কেটেছে। আমি আশা করবো আমাদের ছাত্র সমাজ এ ধরনের ঘটনা আর দেখবে না। এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য তারাও সজাগ থাকবে।’
আবরার হত্যার মূল কারণ কী জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এ খুনের পেছনে কারণটা কী এটা আমাদের দেখতে হচ্ছে। যারা ধরা পড়ছে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তদন্ত চলছে, এর পেছনে মোটিভটা কী জানার চেষ্টা চলছে। এমনি এমনি একজন আরেকজনকে হত্যা করবে এটা যেমন বিশ্বাসযোগ্য নয়। এর পেছনে নিশ্চই কোনও কারণ আছে। সবই আমরা খতিয়ে দেখছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি যারা পড়াশোনা করতে এসেছে, তারা সবাই মেধাবী। সেই মেধাবীরাই এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এর ভেতরে নিশ্চই কোনও কারণ রয়েছে। সে কারণগুলো উদঘাটন করে নিখুঁত ও তথ্যসমৃদ্ধ চার্জশিট দিতে চাই।’
গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় চকবাজার থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে আবরারের বাবা মামালা করেছেন। ইতোমধ্যে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।