ধর্ষনের প্রমাণ মিললে অভিযুক্ত সেনা সদস্যদের সিভিল জেলে পাঠানো হবে

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন,রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধর্ষনের প্রমাণ মিললে অভিযুক্ত সেনা সদস্যদের সিভিল জেলে পাঠানো হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া সেনানিবাসে আর্মার্ড কোর সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে ষষ্ঠ সাঁজোয়া কোরের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আইএসপিআর (আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর) থেকে বিফ্রিং দেওয়া হয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে কোনো সেনাসদস্যের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে শুধু চাকরিচ্যুতি নয়, তাকে সিভিল জেলেও পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, আমাদের সব কার্যক্রম অতি স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হয়, কোনো কিছু লুকানোর নেই। তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতা প্রশংসিত হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি সেনাবাহিনীও এদের নিয়ে কাজ করছে। শিশু ধর্ষণের ঘটনাস্থলে শুধু সেনাবাহিনী নয়, অন্য বাহিনীর টহলও ছিল। ক্যাম্পগুলো থেকে রোহিঙ্গারা বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছে, বিভিন্ন স্থানে ধরাও পড়ছে। তাই অপরাধ ঠেকাতে, রোহিঙ্গাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ ও তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাতটি ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে।’

পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী হামলাসহ বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, শান্তি চুক্তির আওতায় সেখানে সেনাসদস্য কমিয়ে ও অনেক ইউনিট গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। শান্তিবাহিনী ও অন্যরা শান্তি চুক্তি ভঙ্গ করে যাচ্ছে। চাঁদাবাজিসহ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিজেদের মধ্যে অস্ত্র ব্যবহার করছে। তারা শান্তি চুক্তির শর্ত পালন করছে না। তাই আমরা অতীতের চেয়ে আবারও কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছি।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকরা যুদ্ধবিগ্রহ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেননি। এরপরও শান্তি বা যুদ্ধকালীন ডিফেন্সের জন্য সাংবাদিকের জন্য একটি ফ্যাকাল্টি খোলা হয়েছে। আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকরা এতে প্রশিক্ষণ লাভ করবেন।

এর আগে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সাঁজোয়া কোরের পুনর্মিলনী প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সামরিক-অসামরিক কর্মকর্তারা ছাড়াও আর্মার্ড কোরের অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিরত কর্মকর্তারা অংশ নেন। প্যারেড পরিদর্শন শেষে সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ তার বক্তব্যের শুরুতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার রূপকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া কোরের সদস্যরা ‘প্রাণ দেবো, মান নয়’ মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত। এ কোরের সদস্যরা দেশের অভ্যন্তরে যে কোনো দুর্যোগময় মুহূর্তে ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতায় অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আরো যুগোপযোগী ও আধুনিক হয়ে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর