কিছু গোষ্ঠীর হাতে চলে যাচ্ছে দেশের ব্যবসা

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে দুই ধাপ অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) প্রকাশিত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদন ২০১৯ অনুযায়ী এ সূচকে এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যেও পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

দেশের ব্যবসা কর্মকাণ্ড কিছু গোষ্ঠীর হাতে চলে যাচ্ছে। সুশাসনের অভাব ও প্রতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর ইআরএফ মিলনায়তনে এই প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এই প্রতিবেদনের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যবসা পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন একটি জরিপ প্রতিবেদন তুলে ধরে সিপিডি।

এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ব্যবসায়ীদের মতামত তুলে ধরে বলেন, ব্যবসায়ীরা মনে করেন দুর্নীতির কারণে দেশে ব্যবসায় খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে। ঘুষ দুর্নীতি বেড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন চতুর্মুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যে আটকে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আর্থিক খাতের অস্থিতিশীলতা। এছাড়া দুর্নীতির প্রসার আমাদের জাতীয় প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। জরিপে ৭৮ শতাংশ ব্যবসায়ী বলেছেন সরকারি কাজ পাওয়ার জন্য ঘুষ দিতে হয়। ৭৬ শতাংশ ব্যবসায়ী বলেন আমদানি-রপ্তানিতে তাদের ঘুষ দিতে হয়। ৭৪ শতাংশ ব্যবসায়ী বলেছেন কর দিতেও তাদের ঘুষ দিতে হয়।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

ডব্লিউইএফ প্রতিবছর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করে থাকে। ডব্লিউইএফ-এর সহযোগী হিসেবে সিপিডি ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশের সক্ষমতাবিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদন করে আসছে। গ্লোবাল কমপেটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৯ বলছে, এবার ১৪১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ১০৫তম অবস্থানে। আগের বছর ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০৩তম অবস্থানে ছিল।

তার আগে ২০১৭ সালে ১৩৫ দেশের মধ্যে ছিল ১০২তম অবস্থানে। অর্থাত্ ধারাবাহিক অবনতি হচ্ছে বাংলাদেশের। ২০১৮ সালের তথ্যের ভিত্তিতে এবং চলতি বছরের শুরুতে চালান জরিপের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো। একটি দেশের অবস্থান বিচারের জন্য প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা, পণ্য বাজার, শ্রম বাজার, আর্থিক ব্যবস্থা, বাজারের আকার, বাজারের গতিশীলতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা— এই মানদণ্ড ব্যবহার করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। এসব মানদণ্ডের ভিত্তিতে ১০০ ভিত্তিক সূচকে সব মিলিয়ে এবার বাংলাদেশের স্কোর হয়েছে ৫২, যা গত বছরের স্কোরের চেয়ে ০.১ কম।

সূচকের ১২টি মানদণ্ডের মধ্যে স্বাস্থ্য, পণ্য বাজারে উন্নতি হলেও প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, অবকাঠামো, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, শ্রম বাজার, আর্থিক ব্যবস্থা, বাজারের আকার, বাজারের গতিশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতায় এবার সূচকে পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে প্রতিযোগিতা সক্ষমতার দিক দিয়ে এবারের সূচকের শীর্ষে উঠে এসেছে সিঙ্গাপুর। এশিয়ার এই দেশটির স্কোর ৮৪ দশমিক ৮। এরপরই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, জাপান, জার্মানি, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্ক। এই দশটি দেশই গতবারের সূচকে শীর্ষ দশে ছিল, এবার শুধু অবস্থানের হেরফের হয়েছে। এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে ভারত।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর