মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সহ নদীর মোহনায় ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণার পর অলস পরে আছে ফিশারীঘাটের মাছ ধরার নৌকা, ট্রলার সহ, মাছের আড়ত। সেই সাথে বেকার জীবন যাপন করছে মৎস্য নির্ভরশীল জেলে সমাজ।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বুধবার (৯ অক্টোবর) থেকে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৮০ শতাংশ মা ইলিশ ডিম ছাড়ে এই সময়েই। একটি বড় ইলিশ ২৩ লাখ পর্যন্ত ডিম ছাড়তে পারে।
এ সময় ইলিশের ডিম ছাড়ার উত্তম সময়। তাই এই সময়ে ইলিশের আহরণ, পরিবহন, মজুত হতে শুরু করে কোন প্রকার ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা আইন অমান্য করলে জেল, জরিমানা ও উভয় দণ্ডের দন্ডিত করার বিধান রয়েছে। আর যারা মৎস্য নির্ভরশীল তাদের নিষেধাজ্ঞা কালীন সময়ে খাদ্য সহযোগিতা দেয়া হবে।
জেলা সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজিম উদ্দিন বলেন, সরকারঘোষিত ২২ দিনের এই অভয়াশ্রম কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা টাস্কফোর্স তৎপর রয়েছে। ইলিশ মাছের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে নদীতে ২৪ ঘণ্টা কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশ টিমের অভিযান চলবে।
ফিশারীঘাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ইলিশের মৌসুমে এবার সাগরে ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে বেশি। পুরো ভাদ্র মাস জুড়েই ইলিশ এসেছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে এখন সাগরমুখী ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাই মাছ আহরণ, পরিবহন সহ সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
ফিশিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি নূর হোসেন বলেন, মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত ট্রলারগুলো এখন অলস বসে আছে। পুরাতন যন্ত্রাংশ ও জাল মেরামতের মাধ্যমে বসে কোনমত দিন কাটাচ্ছে জেলেরা। এমন নিষেধাজ্ঞায় তাদের জীবীকা নির্বাহ খুব কঠিন হয়ে পরেছে।
পাথরঘাটার জেলে সুমন জলদাস এমন নিষেধাজ্ঞায় আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, এর আগে মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় চট্টগ্রামের প্রায় ৪ হাজার জেলে পরিবারকে সরকারি সহায়তা প্রদানের কথা থাকলেও কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়নি। এছাড়া এসময়ে বাংলাদেশে মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও মিয়ানমার ও ভারতের জেলেরা ঠিকই মাছ ধরে।
জানা গেছে, এর আগে ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকার সময়ে সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, সন্দ্বীপ, বাঁশখালী ও আনোয়ারা এলাকার ২৪ হাজার ৪টি জেলে পরিবারকে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়।
এদের মধ্যে সীতাকুণ্ডের প্রায় ৫ হাজার জেলে পরিবার চাল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। নগরের উত্তর কাট্টলী থেকে মোহরা এলাকার প্রায় আড়াই হাজার জেলে পরিবার ও কর্ণফুলী উপজেলার দেড় হাজার জেলে পরিবারও এর আগে কোন সহায়তা পায়নি।
এ ব্যাপারে জেলা সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজিম উদ্দিন বলেন, সাধারণত তালিকাভুক্ত জেলেরাই কেবল অগ্রাধিকার পায়। তালিকায় যাদের নাম থাকে না, তারা বরাদ্দ পায়না।
বার্তাবাজার/এম.কে