বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের নির্দিষ্ট কয়েকটি কক্ষ ছিলো টর্চার সেল। এই কক্ষগুলোতে র্যাগিং ও বিরোধ নিষ্পত্তির নামে নিয়মিত চলতো নির্যাতন। তবে এমন নৃশংস হত্যার ঘটনা হলের ইতিহাসে এটিই প্রথম বলে জানান হলের শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। এদিকে, দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় শোকে হতবাক সাবেক শিক্ষার্থীরা।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলে ঢুকতে গেলেই নিচতলায় নিরাপত্তা কর্মীর পাশেই নোটিশ- ‘র্যাগিং ইজ ক্রাইম’। অথচ সেই হলেই র্যাগিং ছিলো নিয়মিত ঘটনা।
আবরার থাকতেন নিচতলার ১০১১ নম্বর কক্ষে। তার ঠিক মাথার ওপর দোতলার ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়েই নির্যাতন করে হত্যা করা হয় তাকে। সরেজমিন সেখানে গিয়ে চোখে পড়ে প্রতিটি বিছানা এলোমেলো। কক্ষের প্রতি ইঞ্চি জায়গা সাক্ষ্য দিচ্ছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সহপাঠীর নৃশংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন আবরার। কথা হয় আবরারের পাশের রুমের শিক্ষার্থী মাহবুবের সঙ্গে।
তিনি বলেন বলেন, ‘ভোররাত মানে, ৩টা ১০ বাজলে আমি রুম থেকে বের হই। দেখি পোলাপান জটলা হয়ে আছে। যাওয়ার পর দেখলাম ওখানে শুয়ায়ে রাখছে। তখন ডাক্তার এসে মৃত ঘোষণা করেছেন। ডিএইচডব্লিউ স্যারও তখন ছিলেন। এগুলো নিয়ে কথা বললে তো ঝামেলা।’
হলের পুরোনো কর্মচারীরা বলছেন, দোতলার ২০১১, তিনতলার ৩০১২ এবং গেস্ট রুমে বিভিন্ন সময় র্যাগিং কিংবা নির্যাতনের ঘটনা ঘটতো। কিন্তু এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করতে পারছেন না কেউই।
কর্মচারীদের একজন বলেন, ‘নির্যাতনের ঘটনা মাঝে মধ্যেই ঘটতো অল্পকিছু। কিন্তু এরকম মেরে ফেলেছে, ১৩ বছরের হলের চাকরি জীবনে আমি দেখিনি।’
সাবেক শিক্ষার্থীরা বলছেন, বুয়েট হল কিংবা ক্যাম্পাসে এমন ঘটনা এক সময় কল্পনাই করা যেতো না। হলের মধ্যে কিভাবে গড়ে উঠলো এসব নির্যাতন কেন্দ্র? প্রশাসনের ব্যর্থতা স্বীকার করছেন বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম মাসুদ।
তিনি বলেন, ‘প্রশাসন যদি এ ব্যাপারগুলোতে আরো কঠোর হতো তাহলে এমন ঘটনা হয়তো ঘটতো না।’সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আবরার হত্যার যথাযথ বিচার হলেই কেবল এসবের পুনরাবৃত্তি আর হবে না বলে মনে করেন সবাই।
বার্তাবাজার/এম.কে