রায়গঞ্জে বোরোর চারা সংকট,দিশেহারা কৃষক

রাজশাহী

এম এ মালেক, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ইরি-বোরো চাষের ভরা মৌসুমে চারার সংকট দেখা দিয়েছে। চড়া দামেও ইরি-বোরোর চারা পাচ্ছেন না কৃষক। বছরের শুরুতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ছত্রাকসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হওয়ায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় সাড়ে ১৯ হাজার ৪’শ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ জন্য প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হলেও ৪০ থেকে ৫০ ভাগ চারা শীতে নষ্ট হয়ে যায়। কৃষকেরা জানান, হাইব্রিড এবং ব্রি ২৮ ও ব্রি ২৯ জাতের ধানের বীজতলায় চারা বড় হতে ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগে।

তারপর বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে লাগাতে হয়। এদিকে,এখন আবার বীজতলায় নতুন করে চারা তৈরি করলেও বোরো আবাদে দেরি হয়ে যাবে। আবাদের এ ভরা মৌসুমে
চারা না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত ৪৫ শতাংশ জমিতেই বোরো রোপণ সম্ভব হয়নি।

উপজেলার ব্রম্মগাছা ইউনিয়নের জাঁনকিগাতী গ্রামের কৃষক আজিজল হক বলেন,চার বিঘা জমিতে বোরো আবাদের জন্য বীজতলায় অগ্রহায়ণ মাসে ১০ কেজি ব্রি-২৮ ধানের বীজ
ফেলেছি। কিন্তু শীতে সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন চারার অভাবে বোরা লাগাতে পারছি না। শেষ পর্যন্ত চারা না পেলে মনে হয় পাটই বুনতে হবে।

রবিবার ব্রম্মগাছা বাজারে বোরোর চারা কিনতে আসা চাঁদপুর গ্রামের কৃষক চাঁন মিয়া বলেন, ২২
শতাংশ জমির জন্য দুই হাজার টাকার চারা কিনতে হলো। কখন চারার দাম কমবে, সে আশায় থাকলে জমি শুকিয়ে যেত। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হক মন্ডল বলেন, বোরোর চারার সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, এতে কৃষকদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বোরো রোপণের এখনো যথেষ্ট সময় আছে। অনেকে
নিচু জমিতে পানি থাকার কারণে দেরিতে নতুন করে বীজতলা তৈরি করেছিলেন। যার ফলে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তবে কিছুদিনের মধ্যেই এ সংকট কেটে যাবে।