বদলে যাচ্ছে রেলওয়ে

জাতীয়

উন্নয়নের জোয়ারে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বিগত অন্যান্য সরকারের শাসনামলে দীর্ঘদিন অবহেলিত রেলওয়েকে উন্নতির শিখরে নেয়ার জন্য বর্তমান সরকার রেলওয়ের জন্য ৭০টি মিটার গেজ ইঞ্জিন সংগ্রহসহ ৯ প্রকল্প অনুমোদন দিতে যাচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হবে ১৩ হাজার ৪৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার বসতে যাচ্ছে নতুন সরকারের দ্বিতীয় একনেক বৈঠক। সেখানে ৯টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে।

একনেকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন হতে যাওয়া প্রকল্পগুলো হলো—৭০টি মিটার গেজ (এমজি), ডিজেল ইলেকট্রিক (ডিই), লোকোমোটিভ সংগ্রহ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ২ হাজার ৬৫৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানকল্পে ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড স্থাপন (প্রথম সংশোধিত প্রকল্প)। এটির মোট খরচ হবে ১ হাজার ৩২০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। লিংক রোড লাবনী মোড় সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প, বাস্তবায়নে খরচ হবে ২৮৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। আরিচা (বরঙ্গাইল)-ঘিওর-দৌলদপুর-টাঙ্গাইল সড়কের ষষ্ঠ কিলোমিটারে ১০৩ দশমিক ৪৩ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, খরচ হবে ১০২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ডিজিটাল কানেকটিভি শক্তিশালীকরণে সুইচিং ও ট্রান্সমিটার নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, খরচ হবে ১৫৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। সৈয়দপুর ১৫০ মেগাওয়াট সিম্পল সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র, খরচ হবে ২১৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। রংপুর বিভাগ বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্র সম্পারণ এবং পুনর্বাসন, খরচ হবে ১ হাজার ১২৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। রাজশাহী বিভাগ বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্র সম্প্রসারণ ও পুর্নবাসন, খরচ হবে ১ হাজার ৯১ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ১৫ লাখ গ্রাহককে সংযোগ (সাড়ে ১৯ লাখ গ্রাহক নংযোগের সংস্থানসহ ১ম সংশোধনী) প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৯১৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, একনেকে উঠতে যাওয়া ৭০টি মিটার গেজ (এমজি) ডিজেল ইলেকট্রিক (ডিই) লোকোমোটিভ সংগ্রহ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পটির মূল খরচ ছিল ১ হাজার ৯৪৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। সেখান থেকে ৭১৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বাড়িয়ে এখন মোট খরচ ধরা হচ্ছে ২ হাজার ৬৫৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে বাড়ছে মেয়াদও। মূল মেয়াদ ছিল ২০১১ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত। পরবর্তী সময়ে খরচ বৃদ্ধি ছাড়াই মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত। এরমধ্যেও বাস্তবায়ন কাজ শেষ না হওয়ায় আরও একবার মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এবার প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবে ৫ বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় কার্যক্রম গুলো হচ্ছে, ৩০টি কমপ্লিট লোকোমোটিভ সংগ্রহ, ২৫টি সেমি-নক-ডাউন কন্ডিশন লোকোভোটিভ, ১৫টি কমপ্লিট নক-ডাউন কন্ডিশন লোকোমোটিভ, স্পেয়ার্স পার্টস ও একটি যানবাহন ক্রয় করা হবে।