নিষিদ্ধ সরফরাজ পরিবর্তে শোয়েব মালিক

খেলাধুলা

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চতুর্থ ম্যাচ শুরুর আগেও খবরটা জানা যায়নি। কিন্তু সবাই অবাক হয়ে গেলেন, ফ্যাফ ডু প্লেসির সঙ্গে টস করতে নামছেন সরফরাজ আহমেদ নয়, শোয়েব মালিক। কারণ কি..? কারণ কি…? সবারই প্রশ্ন। কিন্তু জানা যাচ্ছিল না কিছুই।

অবশেষে কারণ জানা গেল। দক্ষিণ আফ্রিকা-পাকিস্তান ম্যাচের প্রায় ৮ ওভার হয়ে যাওয়ার পর আইসিসির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো, ‘বর্ণবাদী আচরণের জন্য চার ম্যাচ নিষিদ্ধ পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবানে দ্বিতীয় ম্যাচ চলাকালে ব্যাটিং করছিলেন প্রোটিয়া ক্রিকেটার আন্দিল পেহলুকাইয়ো। ওই সময় স্ট্যাম্পের পেছনে পেহলুকাইয়োকে উর্দু ভাষায় সরফরাজ ‘কালো ছেলে’ বলে বাজে মন্তব্য করেন। যা স্ট্যাম্প মাইক্রোফোনে রেকর্ড হয়ে যায়।

সেই রেকর্ড প্রকাশ হতেই তোলপাড় শুরু হয়ে যায় ক্রিকেট বিশ্বে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার বন্যা বয়ে যায়। যার পরিপ্রেক্ষিতে টুইটারে এসে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন সরফরাজ। তার এই ক্ষমা প্রার্থনার পর দক্ষিণ আফ্রিকা দলের পক্ষ থেকেও বলে দেয়া হয়, সরফরাজকে তারা ক্ষমা করে দিয়েছে। প্রোটিয়া অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসি বলেন, ‘সরফরাজ স্যরি বলেছে। আমরাও তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তবে এখন বিষয়টা আইসিসির কাছে। তারা কি সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা তাদের বিষয়।’

একদিন আগে আবার দক্ষিণ আফ্রিকার সেই ক্রিকেটার আন্দিল পেহলুকাইয়োর কাছে সরাসরি ক্ষমা প্রার্থনা করেন সরফরাজ। পেহলুকাইয়োও সরফরাজকে ক্ষমা করে দেন। সবাই ধারণা করেছিল, ভুল বুঝতে পেরে সরফরাজ ক্ষমা চাওয়ার কারণে হয়তো এ যাত্রায় বেঁচে যাবেন তিনি।

কিন্তু আইসিসি তাকে ক্ষমা করেনি। যে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আইসিসি সব সময় কঠোরহস্ত, সেই বর্ণবাদে তারা কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। এ কারণে, শেষ পর্যন্ত চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধই ঘোষণা করেছে সরফরাজকে। যাতে একটা উদাহরণ সৃষ্টি হয়ে থাকে- এ জন্য।

সরফরাজ নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের অধীনেই আগামী চার ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। যার একটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। আর একই সঙ্গে সরফরাজের অনুপস্থিতিতে পাকিস্তান দলের উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।