আত্মসমর্পণকারী মাদক সম্রাটদের ৬৩ জন পুলিশি হেফাজতে

চট্টগ্রাম

খাঁন মাহমুদ আইউব, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার জেলা ব্যাপী মাদক কারবারীরা প্রাণ বাঁচাতে আত্মসমর্পন পক্রিয়ার মধ্যদিয়ে প্রাণ বাঁচানোর পথ খুঁজে বেড়াচ্ছে।সেই সুত্র ধরে এপর্যন্ত ছোট বড় মিলিয়ে অন্তত ৬৩ জন মাদক কারবারী পুলিশি নিরাপত্তা হেফাজতে চলে এসেছে।সর্বশেষ হালনাগাদকৃত ৭৩ জনের তালিকা ভূক্তদের মধ্যে ১০ জন নিহত হলেও বর্তমান ২৫ জন পুলিশের কব্জায় রয়েছে কিন্তু ৩৮ জন এখনো নাগালের বাহিরে।এদিকে পুলিশের উর্ধতন কর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী সরকারী উচ্চপর্যায়ের নির্দেশ পেলেই আগামী মাসের শুরুর দিকে আইনী কার্যক্রম শুরু হতে পারে।অপরদিকে এসব কারবারীদের অবৈধ সম্পত্তি বায়েজাপ্ত করার ভয়ে অনেকে সম্পত্তি বিক্রি শুরু করে দিয়েছে বলে তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে,গেলো বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর যৌত ভাবে কক্সবাজার জেলার সর্বশেষ ৭৩ জন মাদক সম্রাটদের তালিকা প্রনয়ন করে।তবে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে- জিয়াউর রহমান,একরামুল হক, শামশুল হুদা, ইমরান উরফে পুতিয়া মিস্ত্রী, মো. কামাল, হাবিব উল্লাহ,ইউছুপ জালাল উরফে বাহাদুর,আকতার কামাল, মোস্তাক আহমদ মুসু ও বার্মাইয়া শামশু সহ ১০ জন বন্ধুক যুদ্ধে নিহত হলেও বাকী ৬৩ জনের মধ্যে প্রাঁণ বাঁচাতে হাফ ডজন ইউপি সদস্য সহ অন্তত ২৫ জন ইয়াবা ডন পুলিশি কব্জায় ধরা দিয়েছেন,তারা হলেন- টেকনাফ উপজেলা বিএনপি সাধারন সম্পাদক আব্দুল্লার দুই সহোদর আবদুর রহমান ও জিয়াউর রহমান,বদির তিন সহোদর শফিকুল ইসলাম উরফে শফিক, আবদুল আমিন, ফয়সাল রহমান সাবেক পুলিশ কর্তার পুত্র সাহেদ রহমান উরফে নিপু এবং নিহত আক্তার কামালের সহোদর সাহেদ কামাল,টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফরের পুত্র দিদার মিয়া ও টেকনাফ পৌর কাউন্সিলর নুরুল বশর ওরফে নুরশাদ,পশ্চিম লেদার নুরুল হুদা মেম্বার, নাজিরপাড়ার এনামুল হক মেম্বার, সাবরাংয়ের মোয়াজ্জেম হোসেন প্রকাশ ধানু মেম্বার, আলী খালির জামাল মেম্বার ও শাহপরীর দ্বীপের রেজাউল করিম উরফে রেজু মেম্বার, হ্নীলার পশ্চিম সিকদার পাড়ার ছৈয়দ আহমদ, নাজিরপাড়ার আবদুর রহমান,পুরাতন পল্লান পাড়ার মহিলা কাউন্সিলর কুহিনুরের স্বামী শাহ আলম উরফে দেবাইল্যা,জাহাজপুরার নুরুল আলম, হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ার রশিদ আহমদ,সদর ইউনিয়নের মৌলভীপাড়ার একরাম হোসেন, মধ্যম ডেইল পাড়ার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ,টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়ার মং মং চেইন উরফে মমচি ও পৌরসভার দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার জুবাইর হোসেন,অলিয়াবাদের মারুফ বিন খলিল উরফে বাবু।তবে এদের মধ্যে নাগালের বাহিরে রয়েছে জেলার ৩৮ জন ইয়াবা ডন।

অপরদিকে,হ্নীলা পূর্ব পানখালীর নজরুল ইসলাম, পশ্চিম লেদার নুরুল কবীর, নাজিরপাড়ার সৈয়দ হোছন সাবেক মেম্বার, নাইট্যং পাড়ার মো. ইউনুছ, সাবরাং আলীর ডেইলের জাফর আহমদ, হ্নীলা ফুলের ডেইলের রুস্তম আলী, শামলাপুর জুমপাড়ার শফিউল্লাহ, একই এলাকার ছৈয়দ আলম, উত্তরলম্বরীর আবদুল করিম প্রকাশ করিম মাঝি, রাজারছড়ার আবদুল কুদ্দুছ, জাহেলিয়া পাড়ার মো. সিরাজ, সাবরাংয়ের আবদুল হামিদ, নাজিরপাড়ার মো. রফিক, নতুন পল্লান পাড়ার মো. সেলিম, নাইট্যংপাড়ার মো. রহিম উল্লাহ, নাজির পাড়ার মো. হেলাল, চৌধুরী পাড়ার মোহাম্মদ আলম, তুলাতলীর নুরুল বশর, হাতিয়াঘোনার দিল মোহাম্মদ, একই এলাকার মোহাম্মদ হাছন, দক্ষিণ নয়াপাড়ার নুর মোহাম্মদ, সদর কচুবনিয়ার বদিউর রহমান, পূর্ব লেদার জাহাঙ্গীর আলম, মধ্যম জালিয়া পাড়ার মোজাম্মেল হক, ডেইল পাড়ার আবদুল আমিন, উত্তর আলী খালীর শাহ আজম, দক্ষিণ নয়াপাড়ার আলমগীর ফয়সাল, সাবরাং ডেইল পাড়ার মো. সাকের মিয়া, সাবরাংয়ের আলী আহমদ, উত্তর শীলখালীর মো. আবু ছৈয়দ, জাদিমুরার মোহাম্মদ হাসান আবদুল্লাহ, রাজার ছড়ার হোসেন আলী, সাবরাং নয়াপাড়ার মো. তৈয়ব, উত্তর জালিয়া পাড়ার নুরুল বশর মিজ্জি,নাজির পাড়ার জামাল হোসেন, মৌলভী পাড়ার মো. আলী ও আবদুল গণী সহ সর্ব মোট ৬৩ জন শীর্ষ স্থানীয় ইয়াবা মানব পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।

এদিকে,ইয়াবা কারবারীদের আত্মসমর্পন পরবর্তি,তাদের অবৈধ সম্পত্তি বায়েজাপ্ত ও মামলা সংক্রান্ত বিষয়াদি বিচারিক আদালতের মাধ্যমে শাস্তি প্রদানের পক্ষে জেলার তিন চতুর্থাংশ জনসাধারনের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ইতি মধ্যে ঝড় তুলেছে।সে সুত্রে টেকনাফের অনেক ইয়াবা কারবারী তাদের বিভিন্ন সম্পত্তি গোপনে বিক্রিকরে দেয়ার ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে।ইতি মধ্যে ডেইল পাড়া এলাকার এক শীর্ষ ইয়াবা কারবারী বেশ কিছু জায়গা সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ‘বার্তা বাজার’ কে তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইয়াবা কারবারীদের নামে বেনামে মালিকানাধীন সমস্ত সহায় সম্পত্তির দিকে গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানোর দাবী জানিয়েছে স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসাইন বলেন, ইয়াবা নির্মূলে কক্সবাজার জেলা পুলিশ শক্ত অবস্থানে ফলে মাদক সিন্ডিকেট কোণঠাসা হয়ে ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে অনেকে অত্মসমর্পন করেছে।পুলিশের চলমান পদক্ষেপ থেকে কোন মাদক কারবারীরা বাঁচার সুযোগ নেই।তাই আত্মসমর্পনকারী ও পলাতক কারবারীদের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছে পুলিশ।সুতরাং তারা এখন যে সুযোগ পাচ্ছে, হয়তো সামনে তা নাও পেতে পারে তাই সময় থাকতে সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি।