ফুলের রাজ্য গদখালীতে একদিন

ফটো গ্যালারী ফিচার

নগর জীবনের ব্যস্ততার সীমারেখা অতিক্রম করে আমরা এগিয়ে চলেছি একটু প্রশান্তির খোঁজে। একাডেমিক আর পার্সোনাল লাইফের কষাঘাত থেকে মুক্তি পেতে প্রকৃতির সাথে মিশে যাবার ব্যর্থ প্রচেষ্টা। শুরু হল আমাদের বাংলাদেশের ফুলের রাজধানীখ্যাত যশোরের গদখালি মিশন।
ও আচ্ছা প্রথমেই আমাদের পরিচয় দিয়ে রাখি। আমরা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমরা ছিলাম সাত জন। গ্যাং অফ সেভেন স্টার। ভ্রমন করাটা রীতিমত আমাদের নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই নেশা নিবৃত করতেই আমাদের পথচলা।

শহর থেকে যশোর রোড ধরে শতবর্ষী রেইনট্রির ছায়া মাড়িয়ে বেনাপোলের দিকে ১৮ কিলোমিটার গেলেই গদখালী বাজার। গদখালি বাজারের বা হাতের রাস্তা ধরে কিছুদুর এগুলেই চোখে পড়ে শের আলীর ফুল সাম্রাজ্য। বলা হয় বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের উদ্যোক্তা তিনিই। ১৯৮২ সালে ছোট্ট একটি নার্সারি থেকে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ শুরু করেন আজকের শের আলী,হয়েছেন বিখ্যাত, কুরিয়েছেন সুনাম, ভ্রমন করেছেন পৃথিবীর অনেক দেশে।

আমরা গিয়েছিলাম গদখালি ইউনিয়নের পানিসারা গ্রামে। সেখানে পৌঁছেই আমাদের ফুল কেনা ও দেখার ধুম পড়ে যায়। গ্রাম্য বাজারের গ্রামে দোকানিরা থরে থরে ফুলের পসরা সাজিয়ে রেখেছেন। সেখানে স্থান পেয়েছে রজনীগন্ধা, গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, রথস্টিক, জিপসি, গ্যালেনডোলা, চন্দ্রমল্লিকা ।আমাদের ফোর স্টার রকস দিবা,ঐশী,বিথি,ইশিতা কোন দরদাম না করেই কিনে ফেললেন ফুল,সাজলেন তাদের মনের মত অপরুপ সাজে, এ যেন অন্য কোন সাজ নয়, সাজটা নিজ দেশকে বিদেশিদের সামনে তুলে ধরার সাজ। হ্যাঁ সেখানে দেখা পেয়েছিলাম কিছু বিদেশি পর্যটকেরও। থ্রী স্টার রকস আক্তার ইতিমধ্যে বিদেশি পর্যটকের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন, তবে তার জন্য এটা অস্বাভাবিক ছিল না, তিনি জন্মগতভাবেই এমন।
টিম লিডার নোমানের সহায়তায় হাটতে লাগলাম আর দেখলাম পথের দুই ধারে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, গাঁদা, জারবেরা, আর গোলাপ ফুলের ক্ষেত। যেখানে চোখে পড়ল কৃষকদের ব্যস্ততা। কেউ ফুল কেটে গরুর গাড়িতে করে বাজারে নিয়ে যাচ্ছে, সেখান থেকেই বান্ডিল করে চালান হয়ে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে। পুরুষদের পাশে নারী ও শিশুরাও কাজ করছে ফুলের ক্ষেতে। কেউ ফুল কাটেছে, কেউবা সংগ্রহ করছে, অন্যকেউ সেটাকে বাজারজাত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিন, পয়লা বসন্ত, ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে। সারা বছরের তুলনায় এ কয়টি দিবসে ফুল বিক্রি হয় কয়েকগুণ বেশি। আর সে দিনগুলোকে সামনে রেখেই এখন মাঠে মহাব্যস্ত গদখালী ইউনিয়নের ফুলচাষিরা।

বাতাসে ফুলের মিষ্টি সৌরভ, মৌমাছির গুঞ্জন, প্রজাপতির ডানার জৌলুস আর রঙের অফুরান সৌরভের সামনে দাঁড়িয়ে বিশ্বাসই হতে চায় না জায়গাটা আমাদের রক্ত, মাংস আর প্রানের সাথে মিশে থাকা এক টুকরো পৃথিবী।এক টুকরো পৃথিবী বললে ভুল হবে, এটা যেন গোটা পৃথিবীর পবিত্রতার প্রতিনিধিত্বকারী ।

অবশেষে আমাদের ফুলেল রাজধানী ভ্রমন শেষ হল। জানা হল অনেক না জানা কিছু, শেখা হল অনেক নতুন কিছু, পাড়ি দিলাম অনেক অজানা অভিজ্ঞতার প্রান্তরে।

লেখকঃ
মোসাব্বির হোসাইন
সাধারন সম্পাদক,
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি(যবিপ্রবিসাস)