ইবিতে “মিউজিক এন্ড পারফর্মিং আটর্স শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

শিক্ষা

মোস্তাফিজ রাকিব, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) “মিউজিক এবং পারফর্মিং আটর্স এস দ্যা এক্সপজিশন অব লালনস্ ফিলোসফি” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে ইংরেজি বিভাগের সেমিনার কক্ষে এ সেমিনারে অনুষ্ঠিত হয়।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মিয়া মোঃ রাসিদুজ্জামান সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী।
এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শাহিনুর রহমান।ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোসাঃ সালমা সুলতানা’র সভাপতিত্বে সেমিনারে মুখ্য আলোচক ছিলেন নেদারল্যান্ডের হিউম্যানিস্টিক স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো রিনা রোদিনা ভ্যান দা’ মীর।এতে আরো আলোচনা করেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মামুনুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য ড. রাশিদ আসকারী বলেন, মানবতাবাদের যে প্রচার এবং প্রসার এটির চর্চা বাউল সম্রাট লালনের গানের মধ্যদিয়েই সাধিত হচ্ছে। একসময় বাউল সংগীতের উপর প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্যে পড়তে যেতে হতো কিন্তু প্রাচ্যে লালনের মতো একজন বিখ্যাত বাউল থাকার কারনে এখন পাশ্চাত্যের অনেক বড় বড় পন্ডিতেরা তাঁর উপর রিসার্চ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছেন। ড. রাশিদ আসকারী বলেন, লালন শাহ্ মানবতাবাদের গান গেয়েছেন, মানবতাবোধকে বড় করে দেখেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যে ভাবে সেকুলারিজম চর্চা করেছেন তাঁর সাথে এটির সঙ্গতি আছে। বিশ্বশান্তির জন্য বর্তমানে লালনের উপর আরো বেশি বেশি গবেষণা করার আহবান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় উপ-উপাচার্য ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সংগীত প্রেমিরা লালনের সংগীতে আকৃষ্ট হয়ে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়া বাড়িতে আসেন। তিনি বলেন, বাউল সম্রাট লালন শাহ্ ছিলেন মরমীবাদ, আধ্যাত্ববাদ এবং মানবতাবাদী। তাঁকে চর্চা করলে মানুষ মানুষকে ভালবাসবে। আর মানুষ যদি মানুষকে ভালবাসে তাহলে কোন সমস্যাই থাকবেনা পৃথিবীতে। তিনি বলেন, আমাদের বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে চর্চা- সকল ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষই যদি সেই চর্চা করি তাহলে লালনের সাথে তা মিলে যাবে এবং সব ক্ষেত্রে শান্তি ফিরে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তৃতায় অধ্যাপক ড. মোসাঃ সালমা সুলতানা বলেন, লালন সংগীত পৃথিবীর ইস্ট ও ওয়েস্টের মানুষের মধ্যে সম্পর্কের সেতুবন্ধন সৃষ্টি করেছে। যা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন লেখনীর মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, লালনের প্রতিটি গান আজ আন্তর্জাতিক ভাবে সমাদৃত এবং যা বর্তমানে জাতিসংঘের ইউনেস্কো ষোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অংশ।

উল্লেখ্য সেমিনারে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।