জাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষক নিজেই দুর্নীতির সাথে জড়িত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলনের ইন্ধনকারী এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে জামায়াত সংশ্লিষ্টতা, অনৈতিকভাবে তথ্য গোপন করে নিজ অনুষদে আপন দুই মেয়েকে ভর্তি করানো সহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক আঃ জব্বার হাওলাদার তিন মেয়াদে আট বছর যাবৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করছেন।

আওয়ামীপন্থী একাধিক শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আঃ জব্বার হাওলাদার জামায়াতের এজেন্ট হিসেবে আওয়ামী লীগের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছেন।

জানা যায়, ১৯৭১ সালে আঃ জব্বার হাওলাদারের পিতা তোফাজ্জল হাওলাদার ওরফে তোফা রাজাকার বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলায় কসাই নামে পরিচিত। তার নামে একাধিক হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট- অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বহরবুনিয়া গণহত্যার অন্যতম নায়ক এবং দালাল আইনে সাজাপ্রাপ্ত জেলা বদর বাহিনীর প্রধান।

এদিকে আঃ জব্বার হাওলাদারের স্ত্রীও মহিলা জামায়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা। তারা বলেন, ২০০৯ সালে দেশের মানুষ যখন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয় ঠিক সেই মূহুর্তে তিনি অতি গোপনে আওয়ামী লীগের ছায়াতলে আশ্রয় নেন। আর আওয়ামীপন্থী কিছু শিক্ষক ভোটের রাজনীতিতে বিগত প্রায় ১০ বছর যাবৎ ব্যবহার করছেন তাকে।

জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ্য করে জব্বার হাওলাদার বলেন, আমি জামায়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট নই। কেউ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’ এছাড়া এলাকায় তার আত্মীয় স্বজন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলেও দাবি করেন তিনি। এজন্য প্রতিবেদককে তার এলাকায় খোঁজ নেয়ার জন্য বলেন।

অন্যদিকে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আব্দুল জব্বার হাওলাদার তার দুই মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার দুই মেয়ের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ৪২ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী এবং অপর মেয়ে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৪৫ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।

ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী একজন ডিন ওই অুনষদের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। প্রশ্ন প্রণয়ন থেকে শুরু করে ফলাফল প্রকাশ করা পর্যন্ত সবকিছুই তিনি দেখভাল করেন। আর ভর্তি পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট কারো সন্তান বা আত্মীয় পরীক্ষা দিলে তাকে পরীক্ষা কমিটির দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। অথবা ওই কমিটিতেই তিনি থাকেন না।
ভর্তি পরীক্ষারনিয়ম অনুযায়ী, ‘যদি কারও নিকটতম আত্মীয়-আত্মীয়া যথা, (১) ভাই (২) বোন (৩) স্ত্রী/স্বামীর আপন ভাই/বোন (৪) ছেলে (৫) মেয়ে (৬) ভ্রাত্রবধূ (৭) ভগ্নিপতি (৮) স্ত্রী (৯) স্বামী (১০) ভাই বোনের সন্তান (১১) পুত্রবধূ (১২) জামাতা (১৩) চাচা/চাচী (১৪) মামা/ মামী (১৫) ফুফা/ফুফু (১৬) খালা/খালু (১৭) আপন/চাচাতো/মামাতো/ফুফাতো/খালাতো ভাই বোন উক্ত পরীক্ষায় একজন পরীক্ষার্থী হন অথবা তবে বিষয়টি কতৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।’

কিন্তু জব্বার হাওলাদারের ক্ষেত্রে ঘটেছে সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা। জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা অবস্থায়ই তার দুই মেয়ে ওই অনুষদের দুটি বিভাগে চান্স পেয়ে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া শিক্ষক বাসে প্রচন্ড ভিড় থাকলেও আব্দুল জব্বার হাওলাদারের দুই কণ্যা নিয়মিত শিক্ষক বাসে যাতায়াত করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ডেপুটি রেজিষ্ট্রার (শিক্ষা) আবু হাসান বলেন, ‘মেয়েদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সময় তিনি ডিন পদে ছিলেন, কিন্তু বিষয়টি কতৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন কি না তা আমার মনে নেই।’

ডিন’স কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেন বলেন, কোন শিক্ষকের সন্তান বা নিকট আত্মীয় পরীক্ষার্থী থাকলে তাকে ভর্তি পরীক্ষা কমিটিতেই রাখা হয় না। সেখানে একজন অনুষদ ডিন দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার দুই মেয়েকে ওই অনুষদেই ভর্তি করেছেন। যা সম্পূর্ণ অনৈতিক। তিনি এ বিষয়ের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেন।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর