যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানের রাজধানীর মিরপুরের বাসায় চার ঘণ্টা অভিযানের পর সিলগালা করে দিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এটি ভাড়া বাসা ছিল। এখানে তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানরা থাকতো। মাঝে-মধ্যে আরমান এখানে আসতেন। অভিযানে কাউকে না পাওয়ায় বাসাটি সিলগালা করা হয়।
রোববার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় র্যাব-৪ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। এদিন দুপুর ২টার দিকে মিরপুর-২ মসজিদ মার্কেটের ১৬ নম্বর বাড়িতে অভিযান শুরু করে র্যাব। অভিযান শেষে সিও বলেন, বাসাটিতে চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ১২টি চেক বই জব্দ করা হয়েছে। একই ব্যাংকের একাধিক চেক রয়েছে। ১২টি চেক বইয়ের ১০টিই তার স্ত্রীর নামে এবং দুটিতে আরমানের নাম পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, আমরা আরমানের স্ত্রীকে খুঁজছি। তাকে পেলে আরও তথ্য জানা যাবে। আমরা জানতে পেরেছি, তার স্ত্রী অভিযানের খবর পেয়ে ভোর সাড়ে চারটা থেকে পাঁচটার দিকে হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে গেছেন।
তিনি আরও জানান, এখানকার ফ্ল্যাট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, সহ-সভাপতি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়েই আমরা তালা ভেঙে চেকবইগুলো জব্দ করি। বাসায় মাদকদ্রব্য বা অন্যান্য কোনও সামগ্রী পাওয়া যায় নি বলেও জানান তিনি।
রোববার (৬ অক্টোবর) ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রাম থেকে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট ও আরমানকে আটক করা হয়। পরে সম্রাটকে নিয়ে রাজধানীর কাকরাইলের কার্যালয় অভিযান চালায় র্যাব। পাশাপাশি রাজধানীর শান্তিনগর ও মহাখালীর ডিওএইচএস এর বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। এরই মধ্যে আরমান ও সম্রাটকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র্যাবের অভিযানের পর আলোচনায় আসে যুবলীগ নেতা সম্রাট ও আরমান।