ঢাকায় ক্লাব ব্যবসার আড়ারে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে বহুল আলোচিত যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেফতা করা হয়েছে। তার সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন তার অন্যতম সহযোগী ঢাকা দক্ষিণ মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানও।
রোববার ভোরে গ্রেফতারের আগে পর্যন্ত আরমানের নাম তেমন একটা শোনা যায়নি। পরবর্তীতে জানা যায় ক্যাসিনো বাণিজ্যে সম্রাট ও আরমান হরিহর আত্মা। তারা পরস্পর যোগসাজশে রাজধানীতে গড়ে তোলেন অবৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য।
র্যাব গোয়েন্দারা বলছেন, সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্য যেসব যুবলীগ নেতা পরিচালনা করতেন তার মধ্যে আরমান অন্যতম। সম্রাট-সাঈদের পরেই ক্যাসিনো ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি নামডাক আরমানের।
গোয়েন্দা সূত্র আরো জানায়, ক্যাসিনো বাণিজ্যের মাধ্যমেই সম্রাটের সঙ্গে আরমানের সুসর্ম্পক হয়। পরবর্তীতে যৌথভাবে তারা রাজধানীর ক্যাসিনোগুলো পরিচালনা করেন। ক্যাসিনো বাণিজ্য করে সম্রাটের পাশাপাশি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন যুবলীগ নেতা আরমান। প্রতি রাতে ক্যাসিনো থেকে আসা সম্রাটের ৪০ লাখ টাকা আদায় ও হিসাব-নিকাশ করতেন আরমান।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় মোহামেডান, আরামবাগ, দিলকুশা, ওয়ান্ডারার্স, ভিক্টোরিয়া ও ফকিরেরপুল ইয়াংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনো ছিল। এর মধ্যে ইয়াংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। বাকি পাঁচটি ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন সম্রাটের লোকজন।
সম্রাট নিজে ক্যাসিনো দেখাশোনা না করলেও তার ক্যাসিনো চালাতেন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সম্পাদক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর একেএম মমিনুল হক ওরফে সাঈদ। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর সাঈদ সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যান।
সম্রাটের সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া এনামুল হক আরমান যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা যেসব যুবলীগ নেতা পরিচালনা করতেন, তার মধ্যে আরমান অন্যতম। সম্রাটের পরেই ক্যাসিনোবাণিজ্যে তার নাম উচ্চারিত হতো।
ক্যাসিনোবাণিজ্যে আরমানকে গুরু বলে মানতেন সম্রাট।আরমানের উত্থানটা ঘটে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে। নোয়াখালী থেকে ঢাকায় এসে বায়তুল মোকাররমে লাগেজ বিক্রি করতেন তিনি। এর মাঝেই খালেদা জিয়ার নিকটাত্মীয় ‘বাউন্ডারি ইকবাল’ হিসেবে পরিচিত ইকবাল হোসেনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।
ইকবালের মাধ্যমে হাওয়া ভবনে যাতায়াত শুরু করেন আরমান। সেই সময় ক্ষমতায় থাকা বিএনপির ছত্রছায়ায় মতিঝিল ক্লাবপাড়ায় প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন তিনি। সেই প্রভাব খাটিয়ে বিএনপি আমলেই ফকিরাপুলের কয়েকটি ক্লাবের ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রণ নেন আরমান।
এর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে যুবলীগে ভিড় জমান আরমান। সম্রাটের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা শুরু করেন। সম্রাটের বিভিন্ন অপকর্মে শামিল হন। সম্রাটকে মতিঝিল ক্লাবপাড়ার ক্যাসিনোবাণিজ্যে প্রবেশ করান তিনি। সম্রাটকে সামনে রেখে ক্যাসিনোবাণিজ্যের ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতে থাকেন।
সম্রাট ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি হলে সহসভাপতির পদটি বাগিয়ে নেন আরমান। নিজের টাকা দিয়ে তিনি প্রথমে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম কিনে আনেন ঢাকায়।
এদিকে অসামাজিক কার্যকলাপ ও শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট ও সহসভাপতি আরমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রোববার যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি এ দুজনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্রীয় যুবলীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মিজানুল ইসলাম মিজু রোববার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বার্তাবাজার/এম.কে