কাশ্মীর ইস্যুতে চীনের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে ভারত। চীন যেন কাশ্মীর ইস্যুতে নাক না গলায় বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে দিল্লি।
কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে রয়েছে বেইজিং। সম্প্রতি এমন বক্তব্য দেন ইসলামাবাদে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও জিং। চীনা রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্যে উষ্ণ হয়ে ওঠে দিল্লি।
এ বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাবিশ কুমার বলেছেন, জুম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পুরো বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কাশ্মীর সংকট নিয়ে চীন যেন অনধিকার চর্চা না করে।
ওই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াএভাবেই দিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। গত শুক্রবার ইসলামাবাদে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে কথা বলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও জিং।
তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরিদের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও ন্যায় বিচারের দাবিতে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা। দ্রুত কাশ্মীর সমস্যার যৌক্তিক সমাধান হওয়া উচিত। এই ইস্যুতে এবং আঞ্চলিক শান্তির লক্ষ্যে পাকিস্তানের পাশে রয়েছে চীন।’
গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরের সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করে ভারত সরকার। এর পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কাশ্মীর। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা কাশ্মীরজুড়ে। বিক্ষোভ বানচাল করতে ১৪৪ ধারা জারিসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আটক করা হয়।
হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করে কেন্দ্রীয় সরকার। টেলিফোন, ইন্টারনেট সংযোগ কেটে দিলে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর। হাজারও হাজারও বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়।
গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ সভায় কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করে বেইজিং। ভারত সরকার কর্তৃক অধিকৃত কাশ্মিরের সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলের পর চীনের প্রস্তাব অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদে এ নিয়ে আলোচনা হয়।
জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং বলেছিলেন, জাতিসংঘের সনদ মেনেই কাশ্মীর সমস্যা সমাধান হওয়া উচিত। একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান মিলে এ সমস্যার সমাধানে যাওয়া উচিত বলে মনে করে চীন। কাশ্মীর বিষয়ে যৌক্তিক সমাধান ও আঞ্চলিক শান্তি দেখতে আগ্রহী চীন।
বার্তাবাজার/এম.কে