অসময়ে মধুমতি নদীর পানি অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।ফলে ভাঙনের তীব্রতা ভয়াবহ আকার ধারণ করায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ।ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে একটি গ্রাম, কয়েক’শ বাড়িঘর, ফসলি জমি,পাঁকা সড়ক ও মসজিদ।অপরদিকে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ,মাদ্রাসা,ঈদগাহ, মন্দির, সড়ক, খেলার মাঠ, বাড়িঘরসহ নানা স্থাপনা।
সরেজমিনে নদী ভাঙন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারো ভাঙছে মধুমতি নদী।ইউনিয়নের দক্ষিণ পাঁচুড়িয়া সম্পূর্ণ গ্রাম, উত্তর চর-নারানদিয়া গ্রামের কয়েক’শ বাড়িঘর, গাছপালা, ফসলি জমি, বাঁশতলা বাজার থেকে বোয়ালমারী যাতায়াতের পাকা সড়কের এক কিলোমিটার, পাঁচুড়িয়া মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে চলে গেছে নদীগর্ভে।ভাঙনের মুখে রয়েছে পাঁচুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচুড়িয়া ও চর-নারানদিয়া ঈদগাহ, দক্ষিণ পাঁচুড়িয়া ঈদগাহ, দক্ষিণ পাঁচুড়িয়া মসজিদ, উত্তর চর-নারানদিয়া কিউ.জি নুরানী মাদ্রাসা, বাঁশতলা বাজার, বাঁশতলা মসজিদ, উত্তর চর-নারানদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর চরনারানদিয়া গ্রামের চারটি মসজিদ, বাঁশতলা হাফেজিয়া মাদ্রাসা, পাঁচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়,পাঁচুড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস, চাঁদড়া মন্দির, উত্তর চরনারানদিয়া মন্দির, উত্তর চরনারানদিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক,সড়কসহ শতশত বাড়িঘর।
এবারের তীব্র নদীভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে ওই অঞ্চলের অর্ধশতাধিক পরিবার।চোখের সামনে ভিটেবাড়ি মধুমতিতে বিলীন হয়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। দিশেহারা হয়ে আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন তারা।কয়েকটি পরিবারের অন্যত্র বাড়িঘর নির্মাণ করার সামর্থ্য থাকলেও বেশিরভাগ পরিবারগুলোর নেই সেই সামর্থ্য।ফলে বাধ্য হয়েই খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে।
এখনো যাদের ঘরবাড়ি নদীর তীরে আছে, তারা আছেন মহাআতঙ্কে।লোকজন দ্রুত কাঁচা,পাকা বাড়ি ঘরসহ প্রয়োজনীয় মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।বিক্রি করে দিচ্ছেন গাছপালা।ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী বসবাসকারী মানুষ।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন চলতে থাকলেও কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।এতে ভাঙন আগ্রাসী আকার ধারণ করেছে।সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু জিও ব্যাগ ফেললেও তাতে ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না।
মধুমতি নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে ওই এলাকার জনগণ।
এবিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) সন্তোষ কর্মকার বার্তা বাজারকে বলেন, “তাৎক্ষণিকভাবে পশ্চিম ও দক্ষিণ চর-নারানদিয়া এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।সারাদেশেই নদী ভাঙন আছে, তাই দ্রুত কোনো প্রকল্প নেওয়া সম্ভব না। তবে ভাঙন এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা পাউবোর রয়েছে।এ ব্যাপারে হিসাব-নিকাশ করে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।”
মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে দিশেহারা হাজার হাজার মানুষ
মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে দিশেহারা হাজার হাজার মানুষ
Gepostet von Barta Bazar am Samstag, 5. Oktober 2019