গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর দুই দিন পর দুইটি পিকআপ ভরে ঢাকার বাইরে ঢাকা পাচার করা হয়েছে। ওই টাকাগুলো চট্টগ্রামের দিকে গেছে বলে গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
এই টাকার মালিক কে, গন্তব্যস্থল কি, এখন কোথায় আছে- এসব উদঘাটনে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা চেষ্টা করছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দৈনিক ইত্তেফাক।
হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করতেন অবৈধভাবে উপার্জনকারী রাজনীবিদ ও সরকারি কর্মকর্তারা। কিন্তু সেই সুযোগ না দিয়েই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ায় এসব দুর্নীতিবাজ পড়েছেন বেকায়দায়। এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে এটা তাদের ধারণাতেই ছিল না। তাই অনেকে বস্তায় করে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন গ্রামের বাড়িতে, নিকটাত্মীয়দের কাছে। সম্প্রতি এক প্রকৌশলী কয়েক বস্তা টাকা তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাখতে গেলেও ঐ আত্মীয় তা রাখেননি।
জানা গেছে, অবৈধ টাকা রাখার জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনা, দুর্নীতি, মাদক, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতা। কয়েক শত কোটি টাকা নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন।
গোয়ান্দাদের ধারণা, উল্লিখিত দুই পিকআপ ভর্তি টাকা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া কিংবা এমন এক নেতার হতে পারে যার নামের আদ্যক্ষর ‘স’। সম্প্রতি অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া ও ‘স’ আদ্যক্ষরের ঐ নেতাই সবচেয়ে বেশি টাকার মালিক।
রাজনীতির নামে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, পেশিশক্তির প্রয়োগসহ যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই ধারাবাহিকতায় চলছে শুদ্ধি অভিযান। এ অভিযানের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপকর্ম করে দলের ইমেজ ক্ষুণ্নকারী নেতাকর্মীরা একরকম ‘দৌড়ের ওপর’ আছেন।
জানা যায়, দুই বছর আগে থেকেই শুরু হয় বিতর্কিতদের তালিকা প্রণয়নের কাজ। দুর্নীতি করলে কেউ যে ছাড় পাবেন না, এমনকি আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কোনো নেতা, শীর্ষ আমলা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবহন নেতারাও যে অভিযানের বাইরে নেই, তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে অনেক গডফাদারের নাম। গ্রেপ্তারকৃতরা অনেক আমলা, মন্ত্রী, এমপি, প্রভাবশালী রাজনীতিক এমনকি কিছু ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার নামও বলেছেন। এমনকি নাম এসেছে প্রভাবশালী অনেক সাংবাদিকের, যারা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ উপায়ে কাড়ি কাড়ি টাকা উপার্জন করে বিদেশে পাচার করেছেন।
সূত্র জানায়, দুর্নীতিবাজরা সিংহভাগ টাকা পাচার করেছেন ব্যাংককে অবস্থানকারী চট্টগ্রামের শাহীন চৌধুরী নামের হুন্ডি ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারির মাধ্যমে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই নাম।
রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে আমলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক শ্রেণির কর্মকর্তা শাহীন চৌধুরীর মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করেছেন। শুধু এই সরকারের আমলে নয়, বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলেও একই কায়দায় শাহীন চৌধুরীর মাধ্যমে দেশ থেকে ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও আবুধাবিতে কোটি কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলেও তথ্য বেরিয়ে আসছে। এমনকি, শাহীন চৌধুরীর এই হুন্ডি ব্যবসার জন্য ব্যাংককের একটি ব্যাংকে আলাদা ডেস্কও রয়েছে।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি