সিরাজগঞ্জে দুই ছাত্রীর বাল্য বিয়ে বন্ধ, বর ও কনের পিতার অর্থদন্ড

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নে একই রাতে দুই ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছেন সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান।

সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী কানিজ ফাতেমা (১৬) ও রাত ১১টায় একই গ্রামে সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী তানিয়া খাতুন (১৩) এর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহ গুলো বন্ধ করা হয়। প্রথমে ভ্রাম্যমাণ আদালত সয়দাবাদ ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে সংগীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে অভিযান চালান।

তখন কনের চাচার বাড়ীতে কনে টাংগাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার সড়াতৈল গ্রামের মোঃ আঃ মজিদ এর কন্যা কানিজ ফাতেমা (১৬) এর সাথে একই গ্রামের মোঃ লাটু মিয়ার এর পুত্র মনিরুজ্জামান (১৯) এর বিয়ের আয়োজন চলছিলো।

বর ও কনে উভয়ই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং স্থানীয় কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রী।পরে বরের বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বর ও কনের বাবার কাছ থেকে বর ও কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবে না বলে মুচলেকা নেয়া হয়।

এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত রাত ১১ টায় একই গ্রামে অভিযান চালান। তখন কনের বাড়ীতে কনে ফুলবাড়ী গ্রামের মোঃ আঃ রাজ্জাক এর কন্যা তানিয়া সুলতানা (১৩) এর সাথে একই গ্রামের মোঃ গোলাম হোসেন এর কন্যা ওসমান গনি (২২) এর সাথে বিয়ের আয়োজন চলছিল।

আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে বরপক্ষ পালিয়ে যায়।কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কনের বাবাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং কনের বাবার কাছ থেকে কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবে না বলে মুচলেকা নেয়া হয়।

বাল্যবিবাহগুলো বন্ধে সহযোগিতা করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাহিমা আল আশরাফ, সয়দাবাদ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যবৃন্দ।

বার্তাবাজার/এম.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর