চাকরিপ্রত্যাশীর স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়ার একটি ফোনালাপ ফাঁসের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া বিভিন্ন ‘তথ্য-প্রমাণ’ গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে হাজির করছেন।
এসবের মাধ্যমে তিনি নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেছেন। তবে এই ফোনালাপ ফাঁসের মাধ্যমে উপ-উপাচার্যের নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ৫৮ জন শিক্ষক।
সেই সুবিধা নিয়েছেন উপ-উপাচার্য চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার ভাগনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর গাজী তৌহিদুর রহমান।
এ বিষয়ে কয়েক দিন আগে নুরুল হুদার বক্তব্য নেওয়া হয়। তিনি জানান, ফোনালাপ ফাঁসের পর ‘মিথ্যা’ বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠাতে উপ-উপাচার্যের ভাগনে তাকে চাপ দেন। তবে সেই অভিযোগ স্বীকার করেননি উপ-উপাচার্যের ভাগনে গাজী তৌহিদুর রহমান।
নানা সুবিধা নিয়েছেন উপ-উপাচার্যের ভাগনে গত বছরের ১৩ নভেম্বর আইন বিভাগের ওই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর গত ১৭ নভেম্বর সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ অনুমোদন হয়। এর পরদিন ১৮ নভেম্বর নিয়োগপ্রাপ্ত তিনজন বিভাগে যোগদান করেন। তবে ওই নিয়োগে নুরুল হুদা শিক্ষক হতে পারেননি।
ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার বেশ কিছুদিন পর এ বছরের ৭ এপ্রিল নুরুল হুদার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে পাঞ্জাবির একটি ক্যাটালগ পাঠান উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার ভাগনে সহকারী প্রক্টর গাজী তৌহিদুর রহমান। ওই পাঞ্জাবির দাম লেখা ছিল ১ হাজার ৪৬৫ টাকা।
পরে ম্যাসেঞ্জারে পাঞ্জাবির সাইজ উল্লেখ করেন গাজী তৌহিদুর রহমান। সেটি রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সের ‘সেইলর শপ’-এ আছে বলেও জানান। এরপর সেটি না পাওয়া গেলে আরও দুটি ক্যাটালগ হুদাকে পাঠান তিনি।
তার মধ্যে লেমন রঙের পাঞ্জাবিটি তার পছন্দ বলে সেখানে বলেন। এই পাঞ্জাবি সংগ্রহের জায়গা বলেন ‘ইলিয়েন শপ’-এ। এর পরে ঠিকানা হিসেবে লেখেন, রাজধানী ধানমন্ডির রাপা প্ল্যাজার অপর পাশের ‘সীমা ব্লোসম’-এ।
পরে তিনি হুদাকে একটি বিকাশ নম্বর দিতে বলেন। এরপর হুদা তাকে লেখেন, ‘ঠিক আছে স্যার, আগামীকাল আমি সাক্ষাৎকারে অংশ নেব। সাক্ষাৎকার শেষে আমি ওটা কিনতে যাবো।’
এরপর দোকানে গিয়ে বিভিন্ন পাঞ্জাবির ছবি উপ-উপাচার্যের ভাগনের ম্যাসেঞ্জারে পাঠান নুরুল হুদা। সেগুলো দেখার পর উপ-উপাচার্যের ভাগনে লেখেন, ‘বুঝতে পারছ?’
বার্তাবাজার/কেএ