অফিস আছে, আছে চেয়ার টেবিলও। কিন্তু মাসের পর মাসের অধিক সময় ধরে কর্মস্থলে নেই সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা আনসার ভিডিপি মহিলা প্রশিক্ষিকা (টিআই) মোছাঃ ফেরদৌসী খাতুন।
তিনি কর্মস্থলে না গিয়েই বেতনসহ সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অফিস পাড়ায় বইছে নানান গুঞ্জন।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, আনসার ভিডিপির প্রশিক্ষিকা মোছাঃ ফেরদৌসী খাতুন ২০১৬ সালের মার্চ মাসে রায়গঞ্জ উপজেলায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই কোনো মাসে একদিন আবার কোনো মাসে দু’দিন অফিস করেছেন।
বাকি দিনগুলো বিভিন্ন ওজুহাতে তার স্বামীর কর্মস্থল ঢাকাতেই থাকেন। সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী অফিসের হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করার কথা থাকলেও তিনি কোনোদিনও তা করেননি। যোগদানের পর থেকেই উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই নাকি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন।
জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক অসুবিধা এবং তার স্বামী ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত থাকায় আবেদনের প্রক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ইং তারিখে ডেপুটেশনে যান মোছাঃ ফেরদৌসী খাতুন। পরে ১১ জুলাই ২০১৯ইং তারিখে সেখান থেকে ছাড়পত্র প্রদান করে পূর্বের কর্মস্থল রায়গঞ্জ উপজেলায় যোগদানের জন্য।
সংশিষ্ট দপ্তরের ছাড়পত্র অনুযায়ী তাঁর রায়গঞ্জ উপজেলায় ১৬ জুলাই ২০১৯ইং তারিখে যোগদানের কথা থাকলেও তিনি অধ্যবধি যোগদান না করেই বেতন ভাতাসহ সরকারি অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন।
রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) অফিস চলাকালিন সময়ে সরেজমিনে গেলে দেখা যায় দেখা যায়, অফিসে তালা । পরে উপজেলা আনসার কর্মকর্তাকে ফোন করা হলে তিনি বাইরে আছে বলে একটু অপেক্ষা করতে বলেন।
এরপর উপজেলা আনসার কর্মকর্তা অফিসে এলে আনসার ভিডিপির প্রশিক্ষিকা মোছাঃ ফেরদৌসী খাতুন অফিসে এসেছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন আসেনি।পরে হাজিরা খাতা দেখলে দেখা যায় চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রশিক্ষিকার কোন উপস্থিতি স্বাক্ষর নেই।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ লুৎফর রহমান জানান, আমাকে একাই অফিস করতে হচ্ছে। এ দিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে একটু ব্যস্ততা বেড়ে গেছে আনসার নিয়োগের জন্য।
এদিকে প্রশিক্ষিকা (ফেরদৌসী খাতুন) ঠিক মতো অফিসে আসেনা। অফিসের কাজের একটু প্রয়োজন হলেই অফিস বন্ধ করে বাইরে যেতে হয়। আমার উর্ধ্বতনকে অবশ্য মৌখিক ভাবে জানিয়েছি বিষয়টা।
এ দিকে অভিযুক্ত উপজেলা আনসার ভিডিপি প্রশিক্ষিকা মোছাঃ ফেরদৌসী খাতুনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ডেপুটেশনে ছিলাম তাই অফিসে যায়নি। সময় হলেই যাবো বলে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ড মির্জা সিফাত-ই খোদা জানান, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সমপূর্ণ বেআইনি।বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিধি অনুযায়ী খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বার্তাবাজার/এম.কে