রাক্ষসী পদ্মার গর্ভে বিলীন শত শত বসতঘর, স্থাপনা

পদ্মা নদীর চিরচেনা রূপ এখন যেন রাক্ষসীতে পরিণত হয়েছে। শত শত বসতঘরসহ একাধিক সরকারি স্থাপনা ইতিমধ্যে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় পদ্মার পাড়ে গেলেই শোনা যায় ভাঙনের শব্দ। ভিটে-মাটি হারানো মানুষের আকুতি।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি,বন্দরখোলা, চরজানাজাত ইউনিয়নের পদ্মা নদীর ভাঙ্গন অব্যাহত। কয়েকটি গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বন্দরখোলা ইউনিয়নের চরের বাতিঘর খ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসইএসডিপি মডেল উচ্চবিদ্যালয়। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ৪টি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, হাসপাতাল, স্থানীয় হাটবাজারসহ কয়েকশ একর ফসলি জমি।

ইতিমধ্যে ভাঙন কবলিত এলাকায় একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসন। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু কোন অবস্থাতেই ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

পদ্মার চিরচেনা রূপ এখন রাক্ষসীতে পরিণত

কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের নদী ভাঙন কবলিত মাগুরখণ্ড এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত নয়ন তারা বেগমের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘এই এলাকায় আমরা দীর্ঘদিনের স্থানীয়, এখানে আমাদের জমিজমা বাপ-দাদা করছিলো। কিন্তু মাত্র দুই দিনের ব্যবধানের পদ্মার ভাঙনে আমাদের এখন কিছুই নেই। কোথায় গিয়ে থাকবো তাও জানি না। ঘরে কোন খাবার নেই। আমরা তো এখন রোহিঙ্গার চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছি।’

বন্দরখোলা ইউনিয়নের নদী ভাঙন কবলিত এলাকার ঠান্ডু মিয়া বলেন, ‘গতবারও আমার বাড়ি নদীতে ভাঙছে। এবারও ভাঙছে। নিজস্ব কোন জমিজমা নেই। আমার যা ছিলো সবই নদীতে নিয়ে গেছে। রাস্তার উপরে উঁচু স্থানে ঠাঁই নিয়েছি। প্রথম বার ভাঙনের সময় সাহায্য সহযোগিতা কিছুটা পেলেও দ্বিতীয়বার ভাঙনে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য পাইনি।’

মাগুরখণ্ড এলাকার রহিম মিয়া বলেন, ‘আমাদের জমিজমা সব পদ্মায় ভাইঙ্গা নিয়া গেছে। আমাদের কাছে কোন টাকা-পয়সা নেই। ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ট্রলার ভাড়াও নেই। আমরা খুব কষ্টে আছি!’

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিবচরের কয়টি ইউনিয়নের আবারও নতুন করে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।এতে কয়েকশ বসত বাড়ি, সরকারি বিভিন্ন স্থাপনাসহ ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। যাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে তাদের পুর্ণবাসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তাদের ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ভাঙনের কবলে পড়েছে ঐ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম যেন কোনভাবেই ব্যাহত না হয় সে ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনকে বিকল্পভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

-ইত্তেফাক

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর