ভারত রফতানি বন্ধ ঘোষণার পর থেকে বাংলাদেশের বাজারে গত দুদিনের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। দেশের খুচরা বাজারে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। এ পরিপ্রেক্ষিতে আবারও আশ্বাসের বাণী শোনাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ফলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়।
কিন্তু বাজারে পেঁয়াজের দাম কমার বিষয়ে কিছু বলেনি মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন এবং সুদের হার হ্রাস করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আমদানি পেঁয়াজ দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাসের জন্য স্থল ও নৌ বন্দরগুলোয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ফোনে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। সে মোতাবেক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমদানি পেঁয়াজ খালাস করা হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে পেঁয়াজ দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৌঁছানোর জন্য সরকার সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পেঁয়াজ পরিবহন নির্বিঘ্ন করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
দেশের ভোমড়া, সোনামসজিদ, হিলি এবং বেনাপোল বন্দরে পেঁয়াজ আমদানি নির্বিঘ্ন করতে সব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের ১০ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আজ (১ অক্টোবর) থেকে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, যশোর, দিনাজপুর, পাবনা, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলার বাজারগুলোয় তদারকি শুরু করেছেন।
‘এ ছাড়া প্রতি জেলা প্রশাসন থেকেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এলসির মাধ্যমে মিয়ানমার, মিসর ও তুরস্ক থেকে আমদানি পেঁয়াজ বন্দরে খালাস করা শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে বর্ডার ট্রেডের মাধ্যমে টেকনাফ বন্দর দিয়ে আমদানি পেঁয়াজ এবং দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি হাটে বিক্রির জন্য পেঁয়াজ দ্রুত সারাদেশে নির্বিঘ্নে পৌঁছে যাচ্ছে। পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় আছে।’
‘দেশে পেঁয়াজের মূল্য ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ট্রাক সেলে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে।
প্রতি কেজি ৪৫ টাকা মূল্যে এ পেঁয়াজ বিক্রি চলছিল ১৬টি ট্রাকে। আজ (১ অক্টোবর) থেকে ট্রাক সেলের সংখ্যা ৩৫টিতে উন্নীত করা হয়েছে। এতে স্বল্প আয়ের মানুষ ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘সহজ পরিবহনের কারণে সারা বছরই ভারত থেকে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। ভারতের মহারাষ্ট্র ও অন্য এলাকায় বন্যার কারণে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফলে কিছুদিন আগে রফতানির ক্ষেত্রে ভারত প্রতি টন পেঁয়াজের মিনিমাম এক্সপোর্ট প্রাইস (এমইপি) নির্ধারণ করে দিয়েছে। আগে প্রতি টন পেঁয়াজের আমদানি মূল্য ছিল কম-বেশি ২৫০ মার্কিন ডলার। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত তা ৮৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে দেয়।’
‘গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে ভারত কর্তৃপক্ষ। বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে এলসি এবং বর্ডার ট্রেডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে।
মিশর ও তুরস্ক থেকেও এলসির মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি শুর করেছে বাংলাদেশ। এসব পেঁয়াজ দেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে। অল্প সময়ের মধ্যে দেশের বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ স্বল্পমূল্যে পাওয়া যাবে। তাছাড়া ভারত থেকে এবং দেশে উৎপাদিত নতুন পেঁয়াজ শিগগিরই বাজারে আসবে।’
‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পেঁয়াজ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে বেশ কয়েকটি সভা করেছে। ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ আমদানি বৃদ্ধি এবং নৈতিকতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার অনুরোধ করা হয়েছে।
কোনো ব্যবসায়ী পেঁয়াজ মজুত, কৃত্রিম উপায়ে মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা, স্বাভাবিক সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।’
‘সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বলা যায়, দেশের কোনো বাজারেই পেঁয়াজের ঘাটতি নেই। ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মূল্য দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’ তবে আজ পর্যন্ত পেঁয়াজের দাম কমেছে কি না সেটা উল্লেখ করতে পারেনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বার্তাবাজার/কেএ