ঢাকার সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য সেলিনা আক্তার ও তার স্বামীর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে বিরুলিয়ার বাগ্নীবাড়ী এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
পরে সাভার মডেল থানায় হামলার শিকার সেলিনা আক্তার এর স্বামী মোঃ আজম (৫০) ৪ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত ৪ জন বিবাদী হলেন- মনু মিয়া (৫০), আনোয়ার (৪০), মোক্তার (৩৫), সর্বপিতা মোঃ তাজু মিয়া এবং রানা (২৫) পিতা মনু মিয়া, সর্ব সাং বাগ্নীবাড়ী, বিরুলিয়া, সাভার, ঢাকা।

সাভার মডেল থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাদী মোঃ আজম ইট ও বালুর ব্যবসা করে আসছেন। ৪ নং বিবাদী রানা তার নিকট থেকে ইট ক্রয় করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রী করে আসছিলো। কিন্তু সে যাদের কাছে ইট বিক্রী করে তাদেরকে ইটের পরিমাণ কম দেয়ায় বাদী মোঃ আজম এর ব্যবসায় দূর্নাম সহ তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের নিকট বিষয়টি উত্থাপন করেন। এতে করে বিবাদীরা বাদীর উপর ক্ষিপ্ত হয় এবং মঙ্গলবার বাদী মোঃ আজমকে জরুরী কথা আছে বলে দেখা করার জন্য বলে। সেই অনুযায়ী বাদী সকাল সাড়ে দশটার দিকে বাগ্নীবাড়ী এলাকার ফজল হক এর দোকানের সামনে এলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বিবাদী ৪ জন আরও অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন সন্ত্রাসী সহযোগে বাদীকে ঘিরে ধরে তার উপর এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। বাদীর ডাক-চিৎকারে এসময় তার স্ত্রী বিরুলিয়া ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার সেলিনা আক্তার এগিয়ে এসে তার স্বামীকে রক্ষার চেষ্টা করলে ৪ নং বিবাদী রানা সেলিনা আক্তারের চুল ধরে টেনে মাটিতে ফেলে দেয় এবং তার পরণের কাপড় ছিড়ে ফেলে শ্লীলতাহানি ঘটায়। এসময় আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বিবাদী রানা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে তাদেরকে ছেড়ে চলে যায় এবং যাবার সময় মহিলা মেম্বারের প্রতি বিভিন্ন অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে।
বিবাদীদের সাথে যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় এব্যাপারে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায় নাই। তবে মুঠোফোনে বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মোঃ আজগর এর নিকট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনা শুনেছি, তবে আমার হাতে এখনো অভিযোগ পৌঁছায়নি। অভিযোগ পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এএফএম সায়েদ জানান, বিরুলিয়া ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার এর স্বামী তাদের উপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করেছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।