পদ্মার ভাঙনে বিদ্যালয়ের একাংশ পদ্মার গর্ভে

রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর ভাঙনে মারাত্বক ঝুঁকিতে থাকা রাজবাড়ীর সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশ পদ্মা নদীর পেটে। সরেজমিন পরিদর্শন করে ভবনটি সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। বিদ্যালয়টি রক্ষায় তিনবছরে ব্যয় হয়েছে কোটি টাকা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হেদায়েতুল ইসলামের কার্যালয় সুত্রে জানা য়ায় , ১৯৭৪ সালে ৩৯ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে ১৪৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ১৪৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন পাঁচজন শিক্ষক।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে পাশের হার শতভাগ। গতবছর শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিলো ১৫৬ জন। এখানে একটি পাকা ভবন ও একটি টিনসেড পাকা ভবন রয়েছে। রয়েছে একটি শহীদ মিনার। এক সময় কয়েক কিলোমিটার দুরে থাকলেও গত কয়েক বছরের পদ্মার অব্যাহত ভাঙনের ফলে নদী বিদ্যালয়ের ভবনের কাছে চলে এসেছে। ইাত মধ্যে বিদ্যালয়ের ভবনের পাশে থাকা তিনটি গাছ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে স্কুল ভবনের একাংশ পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতিবছর দুটি প্যাকেজের বিপরীতে ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পাড় প্রতিরক্ষার কাজ করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ সালে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে এবং তার আগের বছর আরো ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। চলতিবছর বর্ষা মৌসুমে কোনো সমস্যা হয়নি। হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ২২ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভাঙ্গন শুরু হয়। এক ঘন্টার ব্যবধানে তিনটি মেহগনি গাছ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে জরুরী ভিত্তিতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ (বস্তা) ফেলার কাজ শুরু করা হয়। ভাঙন কবলিত ১২০ মিটার এলাকার ৬০ মিটার অংশকে জরুরি ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ২৫০ কেজি ওজনের বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে। মোট ছয় হাজার তিনশটি জিও ব্যাগ ফেলতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পাকা টিনসেড ভবনের পশ্চিম দিকের একটি কক্ষ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পাশে একটি বাল্কহেডে বস্তায় করে বালু ভরাট করা হচ্ছে। ভরাট করার পর বস্তাগুলো নদীর পাড়ে ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি সরেজমিনে তত্ত্বাবধান করছেন পাউবোর কর্মকর্তারা।

প্রধান শিক্ষক হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের পিয়ন ফোন করে। ফোন পেয়ে বিদ্যালয়ে ছুটে আসি। এসে দেখতে পাই ভবনের একাংশ দেবে গেছে। আমি তাৎক্ষণিক বিষয়টি সবাইকে জানিয়েছি। প্রায় সারারাত বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম। এতে করে আমাদের অপর একটি ভবনের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। পাঠদান কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। সবাই বিদ্যালয়টি খোলা স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণী কক্ষ এর বিশেষ প্রয়োজন কারন সামনে নভেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরিক্ষা শুরু হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন খুবই আন্তরিক ভাবে কাজ করছে।

কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী কৃষ্ণেন্দু বিকাশ সরকার বলেন, এই স্কুলটি গুবছরও ভাঙ্গনের কবে পরেছিল কিন্তু আমরা অনেক চেষ্টা করে ৬০লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয় ভবনটি রক্ষার জন্য তিন মিটার গাইড ওয়াল দেওয়া হয়েছিলো। এবছর আবারও স্কুলটি নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, স্কুলের পাশে ৩টি মেহেগুনি গাছ ছিল প্রথমে গাছগুলি পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। তবুও স্কুলের কোন ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু গাছের শিকড় স্কুলের দেওয়ালের নিচে থাকার কারনে এশটি দেওয়ালের কিছু অংশ নদীতে চলে গেছে। ভাঙ্গন শুরু হওয়ার সাথে সাথেই আমরা বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু করি। ভাঙন ঠেকাতে তারা রাতদিন পরিশ্রম করেছেন। আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। আমরা সব ধরণের চেষ্টা করে যাচ্ছি। স্কুলটি রক্ষা করতে ২ সেপ্টেম্বর রোববার থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর সোমবার পর্যন্ত ১৩হাজার বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। প্রতিটি বালুর বস্তা সরকারী ভাবে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫৫ টাকা, ৬০লক্ষ টাকার বস্তা ফেলা হয়েছে। গত বছরও ৬০লক্ষ টাকার কাজ করা হয় এই স্কুল রক্ষার্থে বলে জানান তিনি।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর