তরুনীকে ধর্ষনের অভিযোগে ওসি বরখাস্ত

তরুনীকে চাকরির প্রলোভনে ধর্ষনের পর গর্ভপাতের অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও অভিযুক্ত ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।

বরখাস্ত ও মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) মো. সোহেল রানা।

সংশ্লিষ্ট জায়গায় অভিযোগ দিয়েও বিচার না পেয়ে ওই তরুনী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আইজিপি বরাবর অভিযোগ দেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে ওসি মাহমুদুল হাসানকে বরখাস্ত করা হয়।

ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, তিনি একটি সরকারি কলেজ থেকে পড়ালেখা শেষ করে চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওসি মাহমুদুলের হকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরেই ফোনে কথা বলতেন।

মতিঝিল বিভাগের ডিসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সদর দপ্তরে পাঠানো হয়। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

ওই তরুণী গণমাধ্যমকে জানান, তিনি অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়লে ওসি গর্ভপাতের শর্তে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলে তিনি গর্ভপাত করান। তবে এরপর মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বিয়ে করেননি। একপর্যায়ে ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগই বন্ধ করে দেন ওসি মাহমুদুল।

ভুক্তভোগী ওই তরুণী আরও বলেন, ‘আমি সরকারি একটি কলেজ থেকে পড়ালেখা শেষ করে চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এর মধ্যে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে ওসি মাহমুদুল হক আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তিনি চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমাকে ঢাকায় ডেকে আনেন। আমাকে রাখার জন্য পল্টনের ক্যাপিটাল হোটেলের একটি রুমে নিয়ে যান। সেখানে হোটেল বয়কে দিয়ে আমার জন্য স্যুপ নিয়ে আসান। আমি খেতে না চাইলেও জোর করে খাওয়ান। এরপরই আমি ঘুমিয়ে পড়ি।’

ওই তরুণী বলেন, ঘুম ভাঙলে দেখি রাত ২টার মতো বাজে। ওই সময় মাহমুদুল হক আমার পাশেই শুয়ে ছিলেন। আমি বুঝতে পারি, ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ধর্ষণের শিকার হয়েছি। মাহমুদুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি আমাকে ভালোবাসেন। তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয় জানিয়ে তিনি আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন।

ওই তরুণীর অভিযোগ, এরপর প্রতি সপ্তাহেই ওই তরুণীকে ঢাকায় ডেকে এনে একই হোটেলে নিয়ে যেতেন মাহমুদুল হক। গত বছরের অক্টোবর মাসে তিনি বুঝতে পারেন, অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। এ কথা মাহমুদুল হককে জানালে তিনি ওই তরুণীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গর্ভপাত করতে বলেন এবং একপর্যায়ে তার কথায় রাজি হয়ে গর্ভপাত করান ওই তরুণী।

গত বছরের অক্টোবর মাসে তিনি বুঝতে পারেন, অন্তঃস্বত্ত্বা। বিষয়টি মাহমুদুল হককে জানালে এরপর তাকে বিয়ের শর্তে গর্ভপাত করানো হয়। এরপর থেকেই ওই তরুণীর সঙ্গে সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেন ওসি মাহমুদুল। দুই জনের সম্মতিতে তাদের মধ্যেকার শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ও ছবিও ধারণ করা হয়েছে, যেগুলো ওই তরুণীর কাছে রয়েছে।

ওই তরুণী আরো জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে না করায় গত ২ এপ্রিল তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন ওসি। এরপর তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। পরে তরুণীর পরিবার বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা ওসি মাহমুদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো এবং বর্তমানে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত ওই তরুণীর ক্ষতিরও চেষ্টা করা হয়। এসব ঘটনার পর বিচার চেয়ে ওই তরুণী মতিঝিল জোনের এডিসি শিবলী নোমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্ত মীমাংসার কথা বলে শিবলী নোমান তাকে হেনস্তা করেন। শেষমেষ ওই তরুণী বিষয়টির সুরাহা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পুলিশের সদর দফতরে আইজিপি বরাবর অভিযোগ করেন। অভিযোগে ওই তরুণী জানিয়েছে, ওসি মাহমুদুল হক তাকে বিয়ে না করলে তিনি আদালতে মামলা করবেন।

জানা গেছে, বিষয়টির তদন্ত করে মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোনালিসা বেগম তদন্ত প্রতিবেদন ডিএমপি সদর দফতরে পাঠান। সেখান থেকে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সেটি পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়। জানা গেছে, ওসি মাহমুদুল হক ২০০১ সালে এসআই পদে পুলিশে যোগ দেন। তার বাড়ি নওগাঁ জেলায়। চাকরি জীবনে তিনি একটি গুরুদন্ডে ব্ল্যাক মার্ক এবং ২২টি লঘুদন্ডিত হয়েছেন। তিনি ২০১৭ সালের ২ জুলাই পল্টন থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন। তার স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে। এ বিষয়ে পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

মতিঝিল জোনের এডিসি মোনালিসা বেগম বলেন, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন ডিএমপিতে জমা দেয়া হয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর