ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শিক্ষক সমিতি কোরাম ছাড়া জরুরী সভা করে আল্টিমেটাম দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষকে ।
জানা যায়, শনিবার রাত দশটায় খুদে বার্তা দিয়ে রোববার এক জরুরী সভা আহবান করা হয়। এতে আলোচ্য বিষয় ছিল প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপকদের ইনক্রিমেন্ট ও সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি ডিউ ডেট থেকে বাস্তবায়ন। খুদে বার্তা পেলেও অধিকাংশ সদস্য উপস্থিত হননি।
জানা গেছে, সভাপতি প্রফেসর কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর আলমগীর হোসেন ভূইয়ার নেতৃত্বে বর্তমান কমিটি এক বছর শাপলা ফোরাম ও প্রায় এক বছর শিক্ষক সমিতির দায়িত্ব পালন করলেও হঠাৎ এ দুটি এজেন্ডা নিয়ে এত অস্থিরতা লক্ষ্য করা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জরুরি সভায় ১৫ জন সদস্যের মধ্যে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ মাত্র ৫ জন উপস্থিত ছিলেন বলে সমিতির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান। সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে আগামী মাসের ১২ তারিখের মধ্যে দাবী আদায় না হলে সমিতি কর্মসূচী ঘোষনা করবে।
উল্লেখ্য গত ২২ সেপ্টেম্বর শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় কোন আলোচনা ছাড়াই সভাপতি প্রফেসর কামাল উদ্দিন এই একই কর্মসূচী ঘোষনা দিলে তাৎক্ষনিক হৈচৈ বেধে যায় এবং সদস্যদের প্রবল চাপের মুখে বক্তব্য প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন তিনি। জরুরী সভার সিদ্ধান্ত আজ বিকেল ৪টায় বিভাগে প্রেরণ করা হলে শিক্ষক সমাজে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। গত ২৮ আগষ্টের সাধারন সভার সিদ্ধান্ত টেমপারিং করার অভিযোগে ১৮০ জন শিক্ষক লিখিত প্রতিবাদ জানালে গত ২২ সেপ্টেম্বর পরের সাধারণ সভার শুরুতেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আনুষ্ঠানিকভাবে দু:খ প্রকাশ করেন।
কোরাম বিহীন মিটিং এ আল্টিমেটাম সম্পর্কে জানতে চাইলে সভাপতি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন, একটি টাইমলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে এই সময়ের ভিতরে সমাধান না করলে পরবর্তীতে কার্যকরী পরিষদ একসাথে বসে সিদ্ধান্ত নিবে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূইয়াকে ফোন দিলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের একাধিক সিনিয়র শিক্ষক দাবী করেন অনেক ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আমরা এক জায়গায় এসেছি কিন্তু প্রফেসর কামালের বেশ কিছুদিনের দলীয় কর্মকান্ড আমাদের হতাশ করেছে। আশা করছি দেশরত্ন শেখ হাসিনার ইঙ্গিত বুঝে অচিরেই তাঁর শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের কাছে কোরাম সম্পর্কে জানতে চাইলে উত্তর না দিয়ে কৌশলে এড়িয়ে যান। জানা গেছে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের বাইরে অধ্যাপক আনোয়ার ও অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. ইয়াকুব আলী বলেন, যদি কোরাম পূরণ না করে কোন সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে এটি দুঃখজনক। আমি মনে করি এটি ব্যক্তিস্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিকে ব্যবহার করা ছাড়া আর কিছুই না। যদি এ ধরণের কিছু ঘটে তাহলে শিক্ষক সমিতিকে বিতর্কের মুখে ফেলে দেয়া হবে এবং শিক্ষক সমিতি তখন শিক্ষক সমিতি থাকবে না তখন এটি ফোরাম সমিতিতে রূপান্তরিত হয়ে যাবে।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস