ঘাটাইলে কাজ শেষ হওয়া আগেই নির্মানাধীন সেতুর ফাটল

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার টোক নদীর উপর ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী ব্যাবহার করার কারণে কাজ শেষ না হওয়ার আগেই গার্ডারটি ভেঙ্গে পরেছে।বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী মাঝেক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী অফিস ও ব্রিজটির সার্বিক দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বানিয়াপাড়া ও বাইচাইল গ্রামের সংযোগ স্থলে টোক নদীর উপর এ ব্রিজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ২৬৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৪ মিটার প্রস্থ ব্রিজটি নির্মাণে ব্যয় হবে ৪ কোটি টাকা।

নির্মাণ কাজে সময় ধরা হয়েছে তিন বছর। এক বছর সময়ের মধ্যে প্রায় ৬৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। নকশা অনুযায়ী নয়টি গার্ডার বসবে ব্রিজটিতে। এরই মধ্যে ছয়টি গার্ডার বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। গার্ডারগুলোর ঢালাইয়ের কাজ উপরেই শেষ করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধায় মেশিন দিয়ে ৭ম গার্ডারটি বসানোর সময় তা ভেঙ্গে যায়। ভেঙ্গে যাওয়া অংশে নিম্নমানের কাজের চিত্র এলাকাবাসীর চোখের সামনে ফুটে উঠে। ভেঙ্গে যাওয়া অংশের ছবি তুলে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম বলেন, ব্রিজটি নির্মানে পাথর ও বালির অনুপাতে সিমেন্ট দেওয়া হয়নি। এক বস্তা সিমেন্টের সাথে ৭টা বালু ও ৭টা পাথর দেওয়া হয়েছে। এ কাজে কিছু বাংলা রড ব্যবহার করা হয়েছে যা এখনো পাশে পড়ে আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অন্যজন বলেন, শুরুতে ব্রিজের নকশার চেয়ে দুই ফুট নিচু করেছিল ঠিকাদার, পরে ঢাকা থেকে ইঞ্জিনিয়ার এসে ভুল ধরে সংশোধন করে দেন। ঘাটাইল থেকে যে ইঞ্জিনিয়ার আসে সে পাশে থাকা ঘরে বসে মোরগ আর কবুতরের বাচ্চা খেতে ব্যাস্ত থাকে।

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, ঢালাইয়ের অধিকাংশ কাজ সন্ধার সময় ও বৃষ্টির মধ্যে করা হয়েছে। যে সময় মানুষ ওইখানে যায় না। উত্তর পাশে যে গার্ডার বসানো হয়েছে সেটিও ফেটে গেছে।

ব্রিজটির সার্বিক দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার সবুজ বলেন, কৌফিয়ত দেওয়ার মতো মনমানসিকতা আমাদের নেই। ব্রিজের কতটুকু কাজ হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চোখের সামনেই তো দেখতে পাচ্ছেন।

ঠিকাদার শ্রী শ্যামল চন্দ্র সাহার সাথে যোগাযোগের মাধ্যম জানতে চাইলে ম্যানেজার সবুজ বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হয়ে বিদেশ আছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী একেএম হেদায়েত উল্লাহ বলেন, মেশিনে সমস্যা থাকার কারণে গার্ডার টেনশনিং করার সময় ফেল করে। যার কারণে গার্ডারটি ভেঙ্গে যায়।

বার্তাবাজার/এম.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর