এভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি হলে কি হবে বাংলাদেশের

পৃথিবীর জলবায়ুর ওপর কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরি। প্রতিদিন জলবায়ুর ওপর ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা জেনে নেই এবং কোথায় অগ্রসর হতে যাচ্ছে এর শেষ পরিণতি।

বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। কার্বন ডাইঅক্সাইড একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস যা পৃথিবীর গ্রিনহাউসকে উত্তপ্ত করছে।

পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যদিও প্যারিস চুক্তিতে কথা ছিল তাপমাত্রা কমাতে সবাই কাজ করবে কিন্তু দুঃখের বিষয় কেও কথা রাখেনি।

বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্রিনহাউস। গ্যাসগুলোর মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গত বছর নতুন রেকর্ড করেছে।

গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধির এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একটি বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি সম্পাদন জরুরি বলে মনে করছেন অনেকেই। তাই সমস্যা সমাধানে জরুরি ও সুচিন্তিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন।

পৃথিবী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থভাবে টিকে থাকার সুযোগ দিতে হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সবরকমের উদ্যোগ নিতে হবে।

জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবেলায় একটি দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতার লক্ষ্যে বিশ্বের নেতাদের নতুন আলোচনা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে বরফ গলার কারণে পানি বাড়ছে ৩ মিলিমিটার করে প্রতি বছরে।

এভাবে চলতে থাকলে ২১০০ সালে পানির উচ্চতা ১ মিটার বাড়বে ১৯৯০ সালের তুলনায়। সব মিলে মনে হচ্ছে “we are in trouble”।

এমন একটি সময় মাত্র ১৬ বছরের মেয়ে গ্রেটা তুনবার্গ (Greta Tunborg) জলবায়ু ইস্যুতে বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছে। পরিবেশ আন্দোলন শুরু করার মাত্র এক বছরের মাথায়ই জুটতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক সব স্বীকৃতি।

ইতিমধ্যে চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়নও দেয়া হয়েছে গ্রেটাকে। গ্রেটাকে দেয়া হয়েছে ‘রাইট লাইভলিহুড অ্যাওয়ার্ড’ যেটি ‘অল্টারনেটিভ নোবেল প্রাইজ’ হিসেবেও পরিচিত।

অনেকেই যেমন বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকরা বলছেন বিশ্ব মানবতার কল্যাণে আসলে কি এমন করেছে গ্রেটা? পরিবেশ ও জলবায়ুর ক্ষেত্রে গ্রেটার অবদান তেমন কিছুই না শুধু জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে একটা তাৎপর্যপূর্ণ গতি সৃষ্টি করছে সে। জলবায়ু সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাত্র এক বছর আগে আন্দোলন শুরু করে সুইডেনের স্কুলপড়ুয়া গ্রেটা।

সুইডেনে তার বয়সে সবাই স্কুলে সময় কাটায় যা এদেশের নিয়ম। গ্রেটা স্কুলে না গিয়ে তার পুরো সময় জলবায়ু নিয়ে ব্যস্ত। তার পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে জড়ো হয়েছে বিভিন্ন দেশের নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার প্রায় অর্ধকোটি মানুষ। যেমন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘পৃথিবী বদলে দিচ্ছে সে।’ কেউ কেউ তাকে পরিবেশবাদীদের ‘হাতের পুতুল’ হিসেবেও দেখছে। তার কথায় সে খুব শক্তপোক্ত ও প্রভাবশালী। সে একটা বিপ্লবে ডাক দিচ্ছে। এতে অনেকের গায়ে কিছুটা জ্বালাও ধরেছে, এ কারণে বাধাও আসছে।

যাই হোক না কেন গ্রেটার এস্পের্গের সিনড্রোম রয়েছে।(Asperger’s syndrome is a disability similar to autism. Anyone with Asperger’s Syndrome has difficulties in social interaction and the disability involves limited behaviors, activities and interests) তার কাছে সব কিছু সাদা এবং কালা, এর বাইরে বা ভেতরে কিছু নেই। এ ধরনের অনেকেই পৃথিবীতে রয়েছে যারা সাধারণত একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উপর পারদর্শী হয়ে থাকে। এছাড়া যদি এরা কিছু পছন্দ করে তার পিছে পুরো জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধাবোধ করে না। মনে হচ্ছে গ্রেটা তার জীবনের মানে খুঁজে পেয়েছে যা পৃথিবীর জন্য মঙ্গল বই অমঙ্গল নয়। গ্রেটা সত্যি ভাগ্যবতী কারণ পৃথিবীতে অনেক গ্রেটা রয়েছে যাদের এমনটি সুযোগ আসেনি আজও।

এখন আমার ভাবনা গ্রেটার ভাগ্যের পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদেরও ভাগ্যের কিভাবে পরিবর্তন আনতে পারি। পৃথিবী দিন দিন যেভাবে গরম হতে চলেছে, বরফ গলছে, তাতে সাগরের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ কি তাহলে পানিতে ডুবে যাবে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে (global warming)? আমরা নিজেরাই বা কি করছি এর প্রতিরোধ করতে বা আদৌও কিছু ভাবছি কি না! নাকি ভেজাল ক্যাসিনো আর দুর্নীতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে আছি। নাকি সেই নন্দলালের মত বসে বসে ভাবছি দেখি না কি হয়! আমরা এখন কোন পর্যায়ে আছি! আমাদের কিন্তু শুধু বিদেশীদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিলে চলবে না। যে পরিমাণ গাড়ি, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজ, প্লাস্টিকের ব্যাগ, কেমিক্যাল, ভেজাল (খাবারে, ওষুধে, ভূমিতে) ব্যবহার করছি তাতে পৃথিবীর বারোটা বাজাতে শুধু অন্যকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদেরকেও নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়ভার নিতে হবে। দেশটা পানিতে ডুবে যাক তা কেউ চাইনা, তাই আসুন সচেতন হই এবং অন্যকে সচেতন করি।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর