রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় এক হল প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অব্যাহতি পাওয়া ওই প্রাধ্যক্ষ হলেন অধ্যাপক বিথীকা বণিক। তিনি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা ছাত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ ছিলেন।
একই সঙ্গে হলের আবাসিক শিক্ষক আঞ্জুমান আরাকে সাময়িকভাবে হল প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারী।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারী জানান, প্রাধ্যক্ষ বিথীকা বণিকের বাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে। ওই ছাত্রী বঙ্গমাতা হলেরই আবাসিক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ চেয়ে নানা কর্মসূচি পালন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে তাকে হল প্রাধ্যক্ষের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং আবাসিক শিক্ষক আঞ্জুমান আরাকে সাময়িকভাবে প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে অধ্যাপক বিথীকা বণিকের বাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন তার ভাই শ্যামল বণিক। ওই ছাত্রী অধ্যাপক বিথীকা বণিকের বাড়িতে তার সন্তানকে পড়াতেন। বৃষ্টির কারণে সে রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রী বিথীকা বণিকের বাড়িতেই থাকেন। রাতে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করা হলে তিনি ফোনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে জানান। পরে ওই ছাত্র জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ এ কল করেন।
রাত ৩টার দিকে নগরীর ধরমপুরের যোজক টাওয়ারের তৃতীয় তলা (বিথীকার বণিকের বাড়ি) থেকে ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত শ্যামল বণিককে আটক করে মতিহার থানা পুলিশ। বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলায় শ্যামলকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রাধ্যক্ষ বিথীকা বণিকের পদত্যাগ ও তার ভাইয়ের শাস্তির দাবিতে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী হলের সামনে ও পরে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে বিষয়ে আশ্বাস দিলে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেন।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস