১৬, জানুয়ারী, ২০১৯, বুধবার | | ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

প্রতিবন্ধী হাবিবুরের ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০১৯

প্রতিবন্ধী হাবিবুরের ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা

এম আজাদ হোসেন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জ শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের সারাসিন গ্রামের দিনমজুর মোঃ হাবিবুর রহমান । ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তিনি আজ পঙ্গুত্বের শিকার। অতিকষ্টে সংগ্রহ করেছেন একটি শারিরিক প্রতিবন্ধী কার্ড।

কিন্ত কার্ডধারী হয়েও তার ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা। বৈবাহিক সূত্রে প্রাপ্ত এক টুকরো ভিটায় তার বাস। অর্ধাহারে অনাহারে কঙ্কালসার দেহ নিয়ে বেঁঁচে আছেন তিনি।
একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান ,স্ত্রী মহিলা বেগম আর একমাত্র ছেলে জাকির হোসেনকে নিয়ে ভালোই কাটছিল তার সংসার।

মাঠে চাষ যোগ্য নিজের কোন জমিনা থাকলেও কোন চিন্তা ছিলনা তার। কারন তখন তার দেহে ছিল যথেষ্ট শক্তি আর অফুরন্ত মনোবল। ছেলেকে শিক্ষিত করার স্বপ্ন হৃদয়ে ধারন করে তিনি অন্যের জমিতে কাজ করেছেন হাসিমুখে। ছেলে শিক্ষিত হয়ে ভাল চাকরি করবে, ঘুচে যাবে সকল দুঃখ দৈন্যতা। এ আশায় বুক বেঁধে সর্ব শক্তি দিয়ে তিনি মাঠের কাজ করতেন। ক্লান্তি যেন তাকে স্পর্শ করার সুযোগ পায়নি কখনো।

কিন্ত তার বুকের লালিত স্বপ্ন আস্তে আস্তে ম্লান হতে থাকে। মাঠে কাজ করার একপর্যায়ে হাবিবুর রহমানের ডানপায়ে এক অদৃশ্য বস্তু ঢুকে যায়। ধীরে ধীরে অবনতির দিকে যেতে থাকে তার পা। সর্বশেষ অপারেশনের মাধ্যমে কেটে ফেলা হয় ডান পা। বগলে থাকা দুটি লাঠি আর অভাব অনটন নিত্যসঙ্গী হয়ে যায় হাবিবুর রহমানের জীবনে।

সংসারের হাল ধরতে হাবিবুরের স্ত্রী মহিলা বেগম ১১০ টাকা হাজিরায় কাজ নেয় পাশের গ্রামের জুটমিলে। কিন্ত সে জুটমিলও এক সময় বন্ধ হয়ে যায়। সেই সাথে বন্ধ হয়ে যায় প্রতিবন্ধীর সংসারের চাকা। উপায়ন্তর না পেয়ে তিনি তার ছেলেকে স্কুল ছাড়িয়ে পাঠান জুতার কারখানায়। ছেলের সামান্য বেতনের টাকায় অর্ধাহারে অনাহারে চলছে তার সংসার।

অসহায় দৃষ্টিতেতাকিয়ে পঙ্গু হাবিবুর রহমান আক্ষেপ ভরে বলেন, এই কার্ড ঘরে রেখে কি লাভ? এই কার্ড তো আমাকে খেতে দেয় না। আমার স্বপ্নের জাল ছিড়ে টুকরো টুকরো হয়েগেছে। মৃদুস্বরে কথাগুলো বলার সময় অঝোর ধারায় পানি গড়িয়ে পড়ছিল প্রতিবন্ধী হাবিবুর রহমানের দু চোখ থেকে।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আমীন ডিউক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ভাতা দেওয়া হবে।