২২, জানুয়ারী, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েরা বোরকা পরবে: শফি

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েরা বোরকা পরবে: শফি

কেউ উচ্চশিক্ষা কিংবা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে চাইলে তাকে বোরকা গায়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো ‘কারও বক্তব্যকে বিকৃত করবেন না’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে তার পক্ষ থেকে এ কথা বলা হয়।

সম্প্রতি আল্লামা শফির নারী শিক্ষা বিষয়ক একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের প্রেক্ষিতে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো গণমাধ্যমে বিবৃতি দিলেন।

কারও বক্তব্যকে বিকৃত করে প্রচার না করার অনুরোধ জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, কেননা এতে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি জন্ম নেয় ও ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।

বিবৃতিতে আহমদ শফির পক্ষে বলা হয়, কারও বক্তব্যকে ব্যাখ্যা দিতে হলে আপনাকে তার কথা বুঝতে হবে, অনুধাবন করতে হবে। না বুঝে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দাঁড় করানো এক ধরণের অপরাধ। আর খণ্ডিত বক্তব্যকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা আরও বড় অপরাধ। কোনো কিছু লিখতে চাইলে সুস্থ মস্তিষ্কে চিন্তাশীল হয়ে সঠিক কথাটি লিখবেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, একটি মহল আমাকে বিতর্কিত করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। আমাকে নারী বিদ্বেষী, নারী শিক্ষাবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। আমি এসব কথার জবাব দিয়েছি। জবাবটি ভালোভাবে পড়ুন এবং বুঝার চেষ্টা করুন। মিথ্যাচার করবেন না।

আহমদ শফির পক্ষে আরো বলা হয়, আমি আবারও বলছি, নারীদের জন্যে নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার ব্যবস্থা করুন এবং তাদের জীবন ও ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। কেউ কারও কন্যাকে অনিরাপদ পরিবেশের দিকে ঠেলে দিতে পারে না।

কারণ হিসেবে বিবৃতিতে বলা হয়, দৈনিক পত্রিকা খুললেই প্রতিদিন চোখে পড়ছে কোথাও না কোথাও কোনো নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে অথবা খুন করা হয়েছে। নৈতিকতা অর্জন না হলে ধর্ষণ, খুন ও উত্যক্তকরণ বন্ধ হবে না। নারীর প্রতি বৈষম্যতা দূর হবে না। ইসলামই ফিরিয়ে দিয়েছে নারীর প্রকৃত সম্মান।

বিবৃতিতে আহমদ শফি দাবি করেন, কেউ কেউ আমার খণ্ডিত বক্তব্যকে ভুলভাবে প্রচার করে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছে। এসব হীন কাজ করবেন না। কারও বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করবেন না। আমার কথার সারাংশ হলো- উচ্চশিক্ষা কিংবা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে চাইলে বোরকা গায়ে দিয়ে পড়বে এবং তাদের শিক্ষকও মহিলা হবে।