জাতীয় পতাকার লাল আর সবুজ আঁচড়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের মধুমতি নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে একটি ব্যতীক্রমধর্মী বিদ্যাপীঠ।নাম তার ৪২নং চরকাতলাসুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টি উপজেলাজুড়ে জ্ঞানসুধার শিশুস্বর্গ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভবনে জাতীয় পতাকার আদলে লাল-সবুজে শোভিত করা হয়েছে।লাল-সবুজের রং তুলিতে বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষ, দেওয়াল, বারান্দা, প্লিয়ার, ফোর, সিঁড়িসহ বিভিন্ন স্থানে জ্ঞান ভিত্তিক বাংলা স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, ইংরেজীবর্ণ, রোমান সংখ্যা ও মনিষীদের বাণীতে শোভা পাচ্ছে।
ফ্লোরগুলি হাতের নকশায় কারুকাজ করা হয়েছে। সিঁড়িগুলি মনোমুগ্ধকর আলপনা দ্বারা সজ্জিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রতিটি দেওয়াল মনিষীদের বাণী দিয়ে সাজানো।শ্রেণিকক্ষগুলোর নামকরণ করা হয়েছে কবি-সাহিত্যিকদের নামে।সেখানে তাদের ছবির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত লেখা আছে।
বারান্দায় রয়েছে শিক্ষার্থীদের প্রতি নির্দেশনা ও নৈতিক শিক্ষামূলক বাণী।নানা রং, বর্ণ, সংখ্যা,বাণীতে নয়নাভিরাম সাজে সজ্জিত বিদ্যালয়টি দেখলে মনে হবে শিশুদের শিক্ষার শিশুসর্গ।এ যেন শিক্ষার উপকরণের ঠাসা জ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা মেলা।ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা হাঁসি খুঁশি আনন্দের মধ্যে দিয়ে শিক্ষা লাভ করছে।
শিশুদের জন্য শেখ রাসেল শিশুস্বর্গ নামে বিদ্যালয়ের ছাদে একটি ফুলের বাগানও রয়েছে।বাগানে সারি সারি টবের গাছে বেড়ে উঠছে নানা প্রজাতির ফল-ফুল আর সবজি।
এদিকে বিদ্যালয়ের সামনে রয়েছে সুবিশাল খেলার মাঠ ও সুবিন্যস্ত ফুলের বাগান এবং নান্দনিক শহীদ মিনারও স্কুলটির সৌন্দর্য্য ও রুচিবোধের পরিচয় দিচ্ছে।রয়েছে মানবতার দেওয়াল,মুক্তিযোদ্ধা কর্নার, দেওয়াল পত্রিকা লিখন,হারানো জিনিস পাওয়া যায় কর্নার,অভিযোগ বাক্স ও সততা স্টোর।বিদ্যালয়টি শিক্ষা ছাড়াও ক্রীড়া, সাহিত্য, সংস্কৃতিসহ বহুমুখী শিক্ষা কার্যক্রমেও সফলতা পেয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, সকালে বিদ্যালয়ে আসার পরে আনন্দে পড়ালেখা করে সময় কেটে যায়। শিক্ষকরা আমাদের খুব ভালোবাসেন। আমাদের বিদ্যালয়ের সব শ্রেণিকক্ষ সাজানো-গোছানো।
পড়ালেখার পাশাপাশি আমরা শেখ রাসেল শিশুস্বর্গে গিয়ে সময় কাটাই। আমাদের খেলার জন্যও একটি কক্ষ সাজানো রয়েছে।এখন স্যাররা যতক্ষণ ছুটি না দেয় ততক্ষন আমরা স্কুলে থাকি। স্কুল সুন্দর হয়েছে তাই আর স্কুল পালাতে ইচ্ছে করে না বলে জানায় তারা।
প্রধান শিক্ষক শাহানারা বেগম বার্তা বাজারকে জানান, “আমরা স্বপ্ন দেখেছি এমন একটি বিদ্যালয়ের, যেখানে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে শিখবে। বিদ্যালয়টি হবে সজ্জিত, ঠিক যেন স্বর্গের মতো।
আমাদের সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে। দক্ষ শিক্ষক, অভিভাবক ও কমিটির সহযোগিতায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।আমাদের বিদ্যালয়ের শিশুস্বর্গটি, সত্যিকারের স্বর্গের মতোই সাজানো হয়েছে।এখানে পড়তে এসে ওরা বিন্দুমাত্রও আতঙ্কের মধ্যে থাকে না।আনন্দে সঙ্গে ওদের পাঠদান করা হয়।
বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. মশিউর রহমান বার্তা বাজারকে বলেন, শিশুদের উপযোগী ও শিশুবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য আমরা এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।আগামীতে বিদ্যালয়টিকে আরও আকর্ষনীয় করার চিন্তা করছি ও পড়াশুনার মান আরও উন্নত করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
ভিডিও লিংকঃ https://www.facebook.com/Bartabazarbd/videos/2410557355896158/
বার্তাবাজার/কেএ