সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন অবৈধ ক্যাসিনোতে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।আর তাতে ধরা পরঝেন চুনোপুটি থেকে শুরু করে রাগব বোয়ালরা।
চলমান অবিযান দেশের খ্যাতিমান এবং অখ্যাত কিছু স্পোর্টস ক্লাবেও চলছে। ক্যাসিনোগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ক্লাবগুলোতেও জুয়া খেলা চলতে দেওয়া হবে না। এসব থেকে কারসাজি করে শতশত কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন সরকারদলীয় কিছু কথিত নেতা। দেশের সাধারণ মানুষ এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে বিতর্কিত লেখিকা লেখিকা তসলিমা নাসরিন নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছেন এর বিপরীত।
বার্তবাজারের পাঠকদের জন্য তসলিমার সেই স্ট্যাটাসটা হুবহু তুলে ধরা হলো-
ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেইজে তসলিমা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে জুয়ো নিষিদ্ধ নাকি? শুনলাম লুকিয়ে লুকিয়ে নাকি ক্যাসিনো ব্যবসা চলছিল আর এখন জেলে ভরা হচ্ছে ব্যবসায়ীদের? জুয়ো অনেকেই ভালোবাসেন, খেলবেন। আজকাল তো ক্যাসিনোগুলোয় সব মেশিনই বসানো। কপাল ভালো হলে লটারি জিতবে, কপাল ভালো হলে স্লট মেশিন থেকে ঝমঝম করে পয়সা বেরোবে। চাতুরি টাতুরির দিন চলে গেছে। সবই কম্পিউটারাইজড। মদ অনেকেই ভালোবাসেন, খাবেন। অন্যের অসুবিধে না করে, অবশ্যই। মদ খেয়ে গাড়ি না চালালেই, বউ না পেটালেই, ভায়োলেন্স না করলেই হলো। মদ জুয়ো নিষিদ্ধ করার কী দরকার?’
‘কিছু মানুষ যদি খেলে এবং খেয়ে আনন্দ পায়, তাদের আনন্দে বাধা দেওয়ার কারণ কী? ব্যবসা ঠিকই চলছে, তবে আড়ালে। আড়ালে চলার চেয়ে প্রকাশ্যে চলা ঢের ভালো। যে দেশের শহরে বন্দরে বৈধ গণিকালয়, যে দেশে মেয়েদের যৌনদাসী হিসেবে প্রকাশ্যেই কেনাবেচা করা হয়, সে দেশে জুয়ো লুকিয়ে খেলতে হয়, মদ লুকিয়ে পান করতে হয়। যেন জুয়ো বা মদ্যপান যৌনদাসত্বের চেয়ে খারাপ কিছু! ধর্ম যত বাড়ে, পাল্লা দিয়ে ভণ্ডামো বাড়ে। পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধ হোক, মানুষের দারিদ্রের সুযোগে মানুষের ওপর যৌন নির্যাতন ছাড়া এ কিছু নয়। কারও ক্ষতি না করে জুয়ো খেলা আর মদ খাওয়া পিওর এন্টারটেইনমেন্ট- এসব থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াই ভালো।’
বার্তাবাজার/এএস