শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলাতে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে ১৩ বছর বয়সী কিশোরকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে উলঙ্গ করে নারিকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের শিকার কিশোরের পাঁশে দাড়িয়েছে শেরপুর জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবের নির্দেশে ২৫ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুবনা শারমিন নির্যাতনের শিকার মনিরুলকে দেখতে যান এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিরুল ইসলামের চিকিৎসা সহায়তার জন্য নগদ ৫ হাজার টাকা তার পরিবারের হাতে তুলে দেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর রবিবার নালিতাবাড়ীর পশ্চিম রাজনগর বন্ধুপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের বাড়ি থেকে একটি মোবাইল ফোনসেট চুরি হয়। এ ঘটনায় আলী হোসেনের বাড়ির লোকজন একই গ্রামের নানাবাড়ীতে থাকা ১৩ বছর বয়সী দরিদ্র কিশোরকে সন্দেহ করে।
এমনকি ওইদিন ওই দরিদ্র কিশোরকে গ্রামের একটি রাস্তা থেকে ধরে পরনের লুঙ্গি খুলে কাঁধে ঝুলিয়ে টেনে-হিঁচড়ে আলী হোসেনের ভাই আব্দুস সালামের বাড়িতে নিয়ে যায় সালামের দুই ছেলে ইসহাক ও রবিউলসহ অন্যরা।
পরে তাকে ওই বাড়ির নারিকেল গাছের পেছনে হাতমোড়া দিয়ে রশিতে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে কিশোরটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে কিশোরের নানা বাড়ির লোকজন অনেক অনুনয়-বিনয় করে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে এবং পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে নির্যাতনকারী ওই গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে ইসহাক মিয়া (৩০) ও রবিউল মিয়া (২০) কে গ্রেফতার করে। তবে এখনও গ্রেফতার হয়নি ঘটনার মূল নায়ক আলী হোসেন।
বার্তাবাজার/এম.কে