শেখ হাসিনার ট্রাম্প জয়!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪-তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। সরকার প্রধান হিসেবে সবচেয়ে বেশিবার বিশ্বনেতাদের এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ছিল মহাসচিবের মধ্যাহ্নভোজ আর সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া নৈশভোজ। সরকার প্রধান অথবা অধিবেশনে আসা দেশগুলোর প্রতিনিধি দলের নেতারাই কেবল আমন্ত্রিত ছিলেন দুটি ভোজসভায়। মধ্যাহ্নভোজে প্রায় ১৪০টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধান অংশ নেন। অনেক বড় দেশ যেমন চীনের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী না আসায় দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং একইসাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে এসব আয়োজনে অংশ নিয়েছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মধ্যাহ্নভোজে প্রত্যক টেবিলে বসেছেন পনেরজন করে রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান। হাইভোল্টেজ এই ভোজসভায় প্রত্যেক নেতার স্থান ছিল নির্ধারিত। সেন্টার টেবিলে আয়োজক জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরাসের পাশেই ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গুরুত্বপূর্ণ এই টেবিলেই বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ছিলেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। বসার আগেই কুশল বিনিময় করেন শেখ হাসিনা ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় কিছুক্ষণ কথাও বলেছেন তারা। টেবিলে ট্রাম্প বসার পর তার হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি ফাইল তুলে দেন। সেই ফাইলের বিষয়বস্তু কী হতে পারে সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

একটি সূত্র বলছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর খুনি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধ বিষয়ক নথি ছিল সেটি। আত্মস্বীকৃত সেই খুনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। তাকে এর আগে বহুবার ফেরৎ চেয়ে আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে ঢাকা। কানাডার সরকারে এই ইস্যুতে ফেরৎ না দেয়ার বিষয়ে অনমনীয় হলেও যুক্তরাষ্ট্র অনমনীয় না। বরং আগে বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি মহিউদ্দিনকে ফেরৎ পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তার ফাঁসিও কার্যকর করেছে বাংলাদেশ।

২০২০ সালে বড় আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পরের বছর ২০২১ সালে, পালিত হবে বাংলাদেশের ৫০ বছর। এই সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক পাঁচ খুনির অন্তত একজনকে ফেরাতে চায় সরকার। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই সরকার প্রধান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ এমন ধারণা কূটনীতিক মহলের। আবার কারো কারো বিশ্লেষণ- সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র হয়তো ট্রাম্পকে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। যদিও বিচারপতি এস কে সিনহা এখন আর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে না, থাকেন কানাডায়।

আলোচনা বা ফাইলের বিষয়বস্তু যাই হোক না কেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন আয়োজনে অন্যতম মধ্যমণি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, ভারতের প্রধানমন্ত্রী কিংবা জার্মান চ্যান্সেলর সবার কাছেই। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্রাম্পের সাথেই তিন চার দফা দেখা সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। অবশ্য নিউইয়র্ক সফরে এরই মধ্যে চারবার দেখা হয়েছে দুই নেতার। আর অক্টোবরের শুরুতে তো দিল্লি সফরেই যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর