১৮, জানুয়ারী, ২০১৯, শুক্রবার | | ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

যমুনা-ইছামতি নদীতে দেখা দিয়েছে মাছের আকাল

আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০১৯

যমুনা-ইছামতি নদীতে দেখা দিয়েছে মাছের আকাল

এম এ মালেক, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ পুরাকালের মৎস্যভাণ্ডার খ্যাত সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার বুক চিরে প্রবাহিত যমুনা-ইছামতি নদী এখন শুষ্কপ্রায়। নদী দুটির বুকে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর-ডুবোচর।

নৌ পারাপারে দেখা দিয়েছে চরম অসুবিধা। অনেক স্থানে জেলের নৌকাই চলে না। দেখা দিয়েছে মাছের আকাল। জেলেদের অনেকেই ঘাটে নৌকা বেধে অলস সময় পার করছে। অনেকে জীবন-জীবিকার তাগিদে এই পেশার বদলে দিন-মজুরিসহ নানা কাজ করছে।

আগে যমুনা-ইছামতি নদীতে সারা বছরই থৈ থৈ পানি থাকতো। বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অবাধ বিচরণক্ষেত্র ছিল এ নদী দুইটি। মাছ ধরেই স্বচ্ছল জীবিকা নির্বাহ করতো শত শত জেলে পরিবার। কিন্তু বর্তমানে নদীতে শুধু বর্ষাকালে পানি থাকলেও সেখানে আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না।

আর শুষ্ক মৌসুমে এই অবস্থা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ কারণে উপজেলার জেলে পরিবারগুলোর চরম দুর্দিন চলছে। তাদের সংসার চলছে খেয়ে না খেয়ে। ইছামতি নদীতে বেশির ভাগ সময় পানি থাকে না। শুস্ক মৌসুমে মরা খালে পরিণত হয়। আর যমুনায় সামান্য পানি থাকলেও মাছ পাওয়া যায় না। ফলে অনেক জেলে তাদের পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে।

কাজিপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রতন হালদার জানান,আগের দিনগুলোতে এ সময়ে নদীতে পানি কমে গেলেও কোলা পড়তো। সে কোলায় প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন কোলাও পড়ে না। আর যাওবা পড়ে তাতে নামীদামী মানুষেরা নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। ফলে পুরো কাজিপুরের জেলে পরিবারগুলোর অবস্থা দিন দিন খারপের দিকে যাচ্ছে। বর্তমানে অবস্থা এমন যে নদী আছে মাছ নেই।

মৎস্যজীবি শ্যামল জানান,নদীতে প্রতি বছর পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় যমুনা-ইছামতির গভীরতা অনেক কমে গিয়ে গতিপথও পরিবর্তিত হয়েছে। তাই মাছ মিলছে না। বাজারে এখন শুধু পুকুরে চাষ করা মাছ পাওয়া যায়। বর্তমানে মাছের যে রকম আকাল চলছে তাতে মাছে ভাতে বাঙালি এ প্রবাদ মুছে যাবে।

এ ব্যাপারে কাজিপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান,দুটি নদীরই নাব্যতা কমে গেছে, মাছের তেমন কোন অভয়াশ্রম নেই। এতে করে জেলেদের বছরের এ সময় তাদের সমস্যা হয়। যার ফলে সরকারিভাবে কার্ডধারী জেলেদের সহায়তা করা হয়।