যুবলীগ নেতা সম্রাটকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

রাজধানীর ক্যাসিনো মাফিয়া যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণ মহানগরের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে নিকটস্থ থানায় আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, অন্যথায় তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে যে শুদ্ধি অভিযান চলছে তার তালিকায় অন্তত ৩ জন মন্ত্রী, ৩০ জন এমপি, ৭ জন প্রভাবশালী নেতা, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের ৬৭ জন নেতাসহ ১৬৩ জনের বিরুদ্ধে ক্রাশ প্রোগ্রামের তালিকা তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া, যুবলীগ নেতা দাবিকারী জি কে শামীম ও ধানন্ডির কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি ও কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল আলম ফিরোজকে। গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে ডিবি। জিজ্ঞাসাবাদে শীর্ষ সাত যুবলীগ নেতাসহ ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রককারী অন্তত অর্ধশতাধিক জনের নাম বলেছেন রিমান্ডে থাকা ঢাকা মহানগর যুবলীগের (দক্ষিণ) সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া।

এদের মধ্যে কেউ কেউ ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া যাদের নাম বলেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন, যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান, যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, যুবলীগের সহসভাপতি এনামুল হক আরমান, সহসভাপতি সোহরাব হোসেন স্বপন, সহসভাপতি সরোয়ার হোসেন মনা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোমিনুল হক সাঈদ, নির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন, ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি এস এম রবিউল ইসলাম সোহেল, বাড্ডা থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, ইমরানসহ প্রায় অর্ধশত জন।

এর মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোল্লা মোঃ কাওসার ও সাঈদ কমিশনার বিদেশে পালিয়ে গেছে বলে তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ক্যাসিনোর পাশাপাশি গণপূর্তের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঠিক কত কোটি টাকা কামিয়েছেন জি কে শামীম ও যুবলীগ নেতা খালেদ, তার হিসাব নিচ্ছে গোয়েন্দারা।

ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পর থেকেই ইসমাইল হোসেন সম্রাট কাকরাইলের ভূইয়া ম্যানশনে শত শত নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত অবস্থায় অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে সম্রাটের ব্যাংক এ্যাকাউন্টের হিসাব নেয়া হয়েছে। তার বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের এ সংক্রান্ত একটি আদেশ দেশের বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে দায়িত্বরত ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। এরপর তাকে হয় আত্মসর্মপণ নয়তো গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হবে জানিয়ে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রাজধানীর কাকরাইল রাজমণি সিনেমা হলের উল্টোপাশে আটতলা ভবনে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ব্যক্তিগত অফিস। ভবনটির চতুর্থ তলায় সম্রাটের অফিসের অবস্থান। এখানেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে বসেন। দিনের অধিকাংশ সময় এখানেই কাটাতেন তিনি। রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনো পরিচালনা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এসব এই ভবনে বসেই সম্রাট নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সম্রাটের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশন থেকে সম্রাটকে গ্রেফতার করতে গেলে অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, যা সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ইতিবাচক হবে না বলে মনে করছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। তাই সম্রাটকে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করতে বলেছে। বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে যদি সে আত্মসমর্পণ না করে তবে তাকে গ্রেফতারের জন্য ভূঁইয়া ম্যানশনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অভিযান পরিচালনা করবে।

ইসমাইল হোসেন সম্রাট সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতেন ৩টি ক্যাসিনো। এগুলো হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব, ব্রাদার্স ক্লাব ও বনানী এলাকার গোল্ডেন ঢাকা। এছাড়া মতিঝিল এলাকার ফুটবল ক্লাব, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব, সোনালী অতীত, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, আরামবাগ ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ছিল সম্রাটের হাতে।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পর এই শুদ্ধি অভিযানের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা পাওয়া যাবে। আগামী বিজয় দিবসের আগেই এই শুদ্ধি অভিযানের ইতিবাচক ফলাফলগুলো মানুষ পেতে পারে। দেশের মানুষের মধ্যে এই শুদ্ধি অভিযান নিয়ে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতিতে এগিয়ে চলা। নিজের দলের আগাছা পরিষ্কার করে সবার কাছে তিনি একটি বার্তা দিতে চান যে, দুর্নীতিবাজ যেই হোক না কেন তার ব্যাপারে কোন ছাড় নয়। একটি নতুন ইমেজের আওয়ামী লীগ যেমন দাঁড় করিয়ে বাংলাদেশের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের বার্তাটি দেশে এবং বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কারো প্রতি কোন সহানুভূতি না দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের সঙ্গে আরেক যুবলীগ নেতা ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নূরন্নবী চৌধুরী শাওন ও তার স্ত্রী-সন্তানের ব্যাংক হিসাবও তলব করা হয়েছে। এর আগে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া ও জি কে শামীম এবং কৃষক লীগ নেতা শফিকুল আলমের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো বন্ধে অভিযান শুরু করে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এরপর অভিযান চালায় পুলিশও। অভিযান শুরু হয়েছেন দেশের অন্যান্য শহরেও।

তথ্যসুত্রে: কালের কণ্ঠ

বার্তাবাজার/এএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর