ছাত্রলীগের সভাপতির নেতৃত্বে দুই স্কুলছাত্রের ওপর হামলা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আরেফিন তায়েফের নেতৃত্বে দুই স্কুলছাত্রের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২৩ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেলে স্থানীয় দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয় ছুটির পর বহিরাগত চিহ্নিত বখাটে আরেফিন তায়েফের নেতৃত্বে হামলায় ২ স্কুলছাত্র আহত হয়েছে। আহত স্কুলছাত্ররা বর্তমানে কুলাউড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত স্কুলছাত্র ও স্থানীয় লোকজন জানান, বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র শোভন ও জাহিদের মধ্যে ক্লাসে প্রবেশ নিয়ে পূর্ব থেকে বিরোধ চলছিল। রবিবার বিদ্যালয়ে একই ঘটনার জেরে শোভন একই ক্লাসের জাহিদ, মাজহার, নাঈম, শাফি, মিজানকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।

তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শোভন তাদের মারধর করে। তারাও শোভনকে পাল্টা মারধর করে। ছাত্ররা বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের জানালে তারা বিষয়টির মীমাংসা করে দেন।

কিন্তু মীমাংসা হবার পর নবম শ্রেণির ছাত্র শোভন বিষয়টি তার চাচাতো ভাই এলাকার চিহ্নিত বখাটে ছাত্রলীগ নেতা আরেফিন তায়েফকে জানায়। তায়েফ বিষয়টি শুনে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে।

এ সময় সে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দিবাকর দাসকে ফোন দিয়ে দেখে নেবার হুমকি দিয়ে বলে ‘আমি ছাত্রলীগ নেতা, আমাকে আপনি চিনেন না’। তাৎক্ষণিক হুমকির বিষয়টি শিক্ষক দেবাকর স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে অবগত করেন।

পরে প্রধান শিক্ষকের বাসায় গিয়ে আরেফিন তায়েফ সহকারী শিক্ষক দিবাকর দাসের কাছে ক্ষমা চেয়ে রেহাই পান। কিন্তু ঘটনার পরদিন স্কুল ছুটির পর জয়চন্ডী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আরেফিন তায়েফের নেতৃত্বে ৪টি মোটরসাইকেলে ৯ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়।

সন্ত্রাসীরা নবম শ্রেণির ছাত্র মির্জান আলী (১৫) ও জামিল আহমদ (১৫) কে কিল-ঘুষি মেরে ও লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন আহত ছাত্রদের উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার এসআই হারুনুর রশীদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুপিয়া বেগম জানান, বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে হামলাকারীদের উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। হামলাকারী ৯ জনের মধ্যে রিপন, শোভন, রাহিদ, লিমন, পলাশ ও মাছুম বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মুচলেকা দিলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি শেষ হয়।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কমর উদ্দিন আহমদ কমরু বলেন, হামলার নেতৃত্বদানকারী আরেফিন তায়েফসহ বাকি ৩ আসামি বৈঠকে অনুপস্থিত ছিল। মঙ্গলবার তাদের ফের উপস্থিত হওয়ার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আরেফিন তায়েফ বলেন, এ ঘটনার সাথে আমি সম্পৃক্ত নই। স্কুলছাত্র শোভন তার ভাইকে নিয়ে যদি মারধর করে সেটার দায়ভার আমি নেব কেন। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়াজুল তায়েফ ও সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম রুমেল জানান, আরেফিন তায়েফ একসময় ছাত্রলীগ করত। তার বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি, রাতের আধারে ছিনতাই ও মাদক কারবারের সাথে দীর্ঘদিন থেকে জড়িত।

উল্লেখ্য, জয়চন্ডী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আরেফিন তায়েফ একটি ছিনতাই ও ধর্ষণ মামলায় কয়েক মাস হাজতবাসের পর তাকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর