ক্যাসিনো থেকে দিনে ৫ লাখ টাকা চাঁদা, ছাত্রলীগ নেতা সোহেল দেশ ছেড়েছেন

ক্যাসিনোর টাকায় বাড়ি গাড়ি ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন এসএম রবিউল ইসলাম সোহেল।সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে ককেজনকে ধরার পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন সোহেল।

দেশ ত্যাগ করা সোহেল ২০১০ সালের ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের উত্তরের সভাপতি ছিলেন।বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি প্রার্থী।

মতিঝিল ক্লাব পাড়ায় ক্যাসিনো থেকে দৈনিক চাঁদাবাজি করা সোহেল নিজের গ্রামের বাড়িতে ৫ কোটি টাকায় নির্মাণ করেছেন আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি।

আর রাজধানীতে ২ কোটি টাকার ২টি হ্যারিয়ার গাড়িসহ ১৪টি গাড়ির মালিক। এর মধ্যে ১০টি গাড়ি দিয়েছেন পরিবহন সার্ভিসে ব্যবসার জন্য। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিজ নামে তিনটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন। প্রতিটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৩ কোটি টাকা করে।

এছাড়া ক্যাসিনোর চাঁদাবাজির টাকায় তিনি একটি হাউজিং কোম্পানি খুলে সেখানে বিনিয়োগ করেছেন প্রায় ১০ কোটি টাকা।এখানে শেষ নয় সোহেলের।

বিয়ে করেছেন এক হালি। কিন্তু প্রথম বিয়ে টিকেছে শুধু ৫/৬ বছর। পরের তিনটি বিয়ে গড়ে ৩/৪ মাস করে টিকেছে। সব মিলিয়ে এখন শত কোটি টাকার মালিক এই এস এম রবিউল ইসলাম সোহেল।

এদিকে জুয়া খেলতে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার সুযোগ করে দেয়ার জন্য প্রতিদিন মোহামেডান ক্লাব থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেয়া হতো পুলিশকে। ক্লাবের দৈনিক আয়-ব্যয়ের হিসাবে বিষয়টি উল্লেখ আছে। এখাতে প্রতিদিন ব্যয় হতো পাঁচ লাখ টাকা।

গত বুধবার মতিঝিল ক্লাব পাড়ায় ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাব। এর পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে সোহেল সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর পালিয়ে যান। সিঙ্গাপুরে ম্যারিনা বে স্যান্ডস হোটেলের তিনি প্রিমিয়াম গ্রাহক। সেখানেই তিনি অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সোহেলের বাবা মৃত মোহাম্মদ আলী ছিলেন বাড্ডার আলাতুন্নেছা স্কুলের দপ্তরী। বাড্ডায় ভাড়া করা বাসায় সোহেলের বেড়ে ওঠা। ২০১৩ সালে সোহেল মতিঝিলের ক্লাব পাড়ায় যাতায়াত শুরু করেন। এরপরই তার চোখের সামনে বিপুল পরিমাণ টাকার সন্ধান মিলে।

চাঁদাবাজির টাকায় প্রথমে মধ্য বাড্ডার গ-৪৭ নম্বর হোল্ডিংসের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ১৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনেন। এ সময় সোহেল মোটরবাইক ছেড়ে প্রাইভেটকার চালাতে থাকেন। মাস ছয়েকের মধ্যে তিনি হ্যারিয়ার ব্র্যান্ডের দামি গাড়ির মালিক হন। গত বছর তিনি মধ্য বাড্ডার প-৬৬ নম্বর অ্যাপার্টমেন্টে একটি ফ্ল্যাট কিনেন। তিনি বাড্ডার ট-১ নম্বর হোল্ডিংসে এএনজেড প্রপার্টিজের একটি অ্যাপার্টমেন্টের দ্বিতীয় তলায় দুইটি ফ্ল্যাট কিনেন।

ফ্ল্যাট দুইটি একটি করে তিনি বসবাস করছেন। ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই এই ফ্ল্যাট থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন বিষয়টি সোহেল তার ক্ষমতা দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেন। এছাড়া তিনি ১০টি বাস কিনে আসিফ নামে এক পরিবহন ব্যবসায়ীর কোম্পানিতে দিয়েছেন।

সোহেলের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের জালালাবাদ ইউনিয়নে। সেখানে তিনি ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন। অজোপাড়াগাঁয়ে এমন সুন্দর বাড়ি নির্মাণ করায় দূরদূরান্ত থেকে লোকজন বাড়িটি দেখতে আসে।

বার্তাবাজার/এএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর