১৮, জানুয়ারী, ২০১৯, শুক্রবার | | ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

সঠিক জীবনসঙ্গী বেছে নিবেন কিভাবে?

আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০১৯

সঠিক জীবনসঙ্গী বেছে নিবেন কিভাবে?

এ কথা শুনতে খারাপ শুনালেও বাস্তব সত্য হচ্ছে পৃথিবীতে আপনার জন্য সঠিক জীবনসঙ্গী হওয়ার মতো কেউ নেই, আপনাকে বুঝতে হবে সঠিক ব্যক্তি বলেই আসলে কিছু হয় না।

সঠিক জীবনসঙ্গী খুঁজতে হলে আগে দেখতে হবে আমি সঠিক মানুষ কি না?

আমরা সব সময় অন্যের মধ্যে পারফেকশন, সৌন্দর্য, যোগ্যতা খুঁজতে চাই কিন্তু আমি কতটুকু যোগ্য সে বিষয়টি সব সময় উপেক্ষা করতে চাই।

আমাদের বুঝতে হবে সম্পর্ক গড়ে ওঠে কতগুলো প্রয়োজনের ভিত্তিতে সেটা হতে পারে আবেগের ,সামাজিক,পারিবারিক প্রয়োজন বা অন্যান্য যে কোন প্রয়োজন।

এই প্রয়োজনগুলো মিটানোর জন্য আমাদেরকে দেখতে হবে কোন সেই জিনিস যা একজন মানুষকে আরেকজনের কাছে টেনে আনে?আর তা যদি আপনি জানতে পারেন তাহলে আপনা থেকেই সবকিছু হবে ,সেটা পেশার ক্ষেত্রে, বিয়ের ক্ষেত্রে বা অন্য যেকোন ক্ষেত্রে।

এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হচ্ছে নিজেকে সবচেয়ে যোগ্য আর দক্ষ করে তোলা। আপনি যদি নিজেকে দক্ষ আর যোগ্য করে তুলতে পারেন তাহলে আর আপনাকে অন্য কারো কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে হবে না বরং অন্যরাই আপনার কাছে এসে ধরা দেবে। আর তখনই আসবে পছন্দের কথা অর্থাৎ কাকে আপনি গ্রহণ করবেন বা করবেন না।

আমরা সাধারণত মনে করি জন্মগতভাবেই আমাদের জীবন সঙ্গী নির্দিষ্ট অর্থাৎ আমার জন্মের পরপরই আরও এমন একজনকে সৃষ্টি করা হয়েছে যে আমার জীবন সঙ্গী হবে । আর যে কারণে আমরা বিয়ের আগেই বারবার আমাদের জীবন সঙ্গী খুঁজতে থাকে অর্থাৎ স্রষ্টা মনে হয় প্রতি দুই বছর পর পর আমাদের জন্য একজন করে উপযুক্ত জীবনসঙ্গী প্রস্তুত করেন কারণ বর্তমান প্রেম বা সম্পর্কে স্থায়িত্ব সর্বোচ্চ দুই বছর।

আবার অনেকের ধারণা দেখতে সুন্দর হলে সে জীবন সঙ্গী হিসেবে উপযুক্ত হবে। যদি তাই হত তাহলে সিনেমা জগৎ বা মিডিয়া জগতের নায়ক নায়িকা বা মডেল হতো সবচেয়ে সুখী কিন্তু বাস্তবে কি তাই হয়? মিডিয়ার মডেলদের অনেকেরই তিন তিনটা করে বিয়ে। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় মডেলদের অনেকেই চূড়ান্ত খ্যাতির শীর্ষে থাকার পরেও আত্মহত্যাকে তার জীবনের শেষ পরিণতি হিসেবে বেছে নেয়।

সম্পর্ক কতটা সুন্দর হবে সেটা অন্যজন দেখতে কতটুকু সুশ্রী, আকর্ষণীয় এটার উপর নির্ভর করে না বরং পারস্পরিক সহানুভূতি, বিশ্বাস আর সমঝোতার ওপর নির্ভর করে। একজন আরেকজনকে বুঝতে পারা এবং তার সাথে একাত্ম হওয়া এটাই হচ্ছে সুসম্পর্কের ভিত্তি।

আবার নারীদের মধ্যে অনেকের ধারণা যে তার স্বামী যদি কৃষ্ণের মতো হত তাহলে হয়তো তিনি দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী রমণী হতেন । যে কারণে হিন্দু শাস্ত্রে নারীরা তাদের স্বামী যাতে কৃষ্ণের মতো হয় সে উদ্দেশ্যে কৃষ্ণ পূজা করে অথচ স্বয়ং কৃষ্ণের স্ত্রীরাই কৃষ্ণ কে নিয়ে অসুখী ছিলেন।

সুতরাং নিজের জন্য সঠিক মানুষকে না খুঁজে , নিজেকে সঠিক মানুষরূপে গড়ে তোলাই হচ্ছে সঠিক কাজ।

আবির হোসেন
সহকারী ব্যবস্থাপক
এস এম ই ফাউন্ডেশন