শনিবার সকালে টাঙ্গাইলে মেয়ের জামাই ডাঃ প্রসেনজিৎ বিশ্বাস (পার্থর) শাস্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শাশুড়ি বিউটি দাস। টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়াম হল রুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ করে প্রিয়াংকা দাসের মা বলেন, গত ১৪-১০-২০১৫ সালে তার মেয়ে ডা. প্রিয়াংকা দাস (২৮) এর সাথে ঝিনাইদহের মৃত নরেশ চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে ডা. প্রসেনজিৎ বিশ্বাস প্রার্থ (৩২) সাথে বিয়ে হয়।
ডা. প্রসেনজিৎ বিশ্বাস প্রার্থ ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার পদে কর্মরত। বিয়ের সময় ছেলে পক্ষকে ৫ লক্ষ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণ দেওয়া হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে তার মেয়ের সাথে দেবর অভিজিৎ বিশ্বাস (২০) ও শ্বাশুড়ী প্রতিমা সরকার (৫০) আরও যৌতুকের দাবিতে খারাপ আচরণ এবং শারিরীকবাবে নির্যাতন করতে থাকে। বিষয়টি মেয়ের স্বামী ডা. প্রসেনজিৎ বিশ্বাস প্রার্থকে জানালে সে ভাই ও মায়ের কথা বিশ্বাস করে আরও বেশি খারাপ আচরণ করতে থাকে।
অপরদিকে ডা. প্রসেনজিৎ বিশ্বাস প্রার্থ এর সাথে বিভিন্ন মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক জেনে ফেলায় প্রিয়াংকা দাসের প্রতি শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন বাড়তে থাকে। সেই সব নারীর মধ্যে একজন শান্তা বিশ্বাস। সে ঝিনাইদহ ব্র্যাক ব্যাংকে কর্মরত। শান্তা বিশ্বাসের কারনেই তার মেয়ের সংসারে কলহ শুরু হয়। শান্তা বিশ্বাস প্রতিনিয়ত ডা. প্রসেনজিৎ বিশ্বাস পার্থের বাসায় যাতায়াত শুরু করে। এরই মধ্যে তার মেয়ে গর্ভবতী হয়। সেই সুযোগে তার মেয়ের কাছে আরও যৌতুক দাবি করে। যৌতুক দিতে না পারায় ৬ সপ্তাহের গর্ভবতী অবস্থায় মেয়েকে তার স্বামীর বাড়ী থেকে বের করে দেওয়া হয়। তার মেয়েকে স্বামীর বাড়ি পাঠাতে চাইলে শ্বশুড়বাড়ির লোকজন কোন কর্ণপাত করে নাই।
বিউটি দাস আরও জানান, প্রচন্ড শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করে তার মেয়ে এক পুত্র সন্তান জন্ম দেয়। সন্তানের নাম প্রথ্বিজিৎ বিশ্বাস। বর্তমানে তার বয়স ৩ বছর। ছেলে সন্তান জন্মের পর বার বার জানানো হলেও প্রসেনজিৎ বিশ্বাস কোন প্রকার পিতার দায়িত্ব পালন করেননি। পারিবারিক সমস্যা সমাধান চেয়ে গত ০৭/৫/২০১৭ ইং তারিখে ঝিনাইদহ পৌর মেয়র বরাবর লিখিত আবেদন করেন প্রিয়াংকা দাস।
পরবর্তীতে ৩/৬/২০১৭ ইং তারিখে সমাধান করা হলেও পৌরসভা থেকে বের হয়ে প্রিয়াংকা দাসকে প্রসেনজিৎ বিশ্বাস (প্রার্থ) বাড়ি নিয়ে যায়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি তৎকালীন ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. রাশেদা সুলতানাকে জানালে তিনি প্রিয়াংকা দাসকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করে ও ডিভোর্স দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। ২৮/৭/২০১৭ তারিখে প্রসেনজিৎ, তার ভাই ও মা টাঙ্গাইলে পূণরায় যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা চলে যায়। ৩/১১/১৯ তারিখে প্রসেনজিৎ এর ঝিনাইদহ বাড়িতে গেলে সেখানেও তারা খারাপ আচরণ করে বিউটি দাসদের বের করে দেয়। ১৬/১/১৮ ইং তারিখে প্রিয়াংকা দাস বাদি হয়ে স্বামী, দেবর ও শ্বাশুড়ীকে আসামী করে যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারায় টাঙ্গাইল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করে।

গত ২৬/৭/১৯ তারিখে বিবাধী প্রসেজিৎ বিশ্বাস (প্রার্থ) আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। ২৬/৭/১৮ থেকে ৫/৮/১৮ ইং তারিখ পর্যন্ত মোট ১১ দিন জেল হাজতে ছিলেন প্রসেনজিৎ বিশ্বাস (প্রার্থ)। জেলহাজতে থাকার বিষয়টি ঝিনাইদহ সিভিল সার্জনকে জানালে তিনি প্রসেনজিৎ বিশ্বাস প্রার্থকে সাময়িক বরখাস্ত করেননি।
বিউটি দাস বলেন, বিয়ের পর থেকে আমার মেয়েকে শারিরীক, মানসিক নির্যাতন করেছে প্রসেজিৎ বিশ্বাস (প্রার্থ)। মামলার করা পর সে জেলহাজতেও ছিলো। বর্তমানে সে জামিনে বের হয়ে মোবাইল ফোনে আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আমি তার সাময়িক বরখাস্তসহ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সাবেক সিভিল সার্জন রাশেদা সুলতানা বলেন, আমি বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। আমি কাউকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করি নাই। প্রসেজিৎ বিশ্বাস (প্রার্থ) এর জেল হাজতে থাকার বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস