১৮, জানুয়ারী, ২০১৯, শুক্রবার | | ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০

যে কারণে ২৫ এর আগে বিয়ে নয়

আপডেট: জানুয়ারি ৩, ২০১৯

যে কারণে ২৫ এর আগে বিয়ে নয়

জন্ম ও মৃত্যুকে বাদ দিলে আমাদের মানব জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে বিয়ে। আজকাল ডিভোর্সের হার আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেলেও বিয়ে আসলে এমন কোন বিষয় নয় যে চাইলেই ভেঙে ফেলা সম্ভব। বরং একটি বিয়ে ভাঙা বিয়ে করার চাইতেও অনেক বেশি কঠিন কাজ।

আর তাই, বিয়ে করার আগে ভালোভাবে ভেবেচিন্তে তবেই করা উচিত। মনে রাখবেন, বিয়ের ক্ষেত্রে সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সঠিক সময়ে বিয়ে করলে আপনার জীবনটি যেমন হয়ে উঠবে আরো সুন্দর, ঠিক একইভাবে ভুল সময়ে বিয়ে করলে ডেকে আনবে সর্বনাশ। আজ জেনে নিন, জীবনে কোন কাজগুলো করার আগে বিয়ে করাটা একেবারেই উচিত হবে না।

পুরোপুরি ম্যাচিউরড হয়ে বিয়ে করা উচিত: ১৮ বছর বয়সে একজন মানুষ পূর্ণবয়স্ক হয়ে থাকেন। কিন্তু নারী বা পুরুষ দুজনেরই নিজের একটি সংসার সামলানোর দায় দায়িত্ব নেয়ার ক্ষমতা ২৫ বছর বয়সের পরই আসে এবং এটি শারীরিক নয় পুরোপুরি মানসিক ব্যাপার।

নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি: আমাদের দেশে ২৫ এর আগে নয় বরং ২৫ এর পরেই একজন মানুষকে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার মত একটি চাকরি পেতে দেখা যায়। পুরুষদের এই সুযোগটি দেয়া হলেও অন্যের স্ত্রী হতে হয় বলে নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এই সুযোগ বেশ কমই দেয়া হয়। কিন্তু আসলেই প্রতিষ্ঠিত হতে হলে ২৫ এর পরই বিয়ের চিন্তা করা উচিত।

আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে বিয়ে করা: শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠিত নয় একজন মানুষের জীবনযাপনের জন্য আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়া আবশ্যক। আমাদের সমাজে শুধুমাত্র পুরুষের এই দিকটি দেখা হয়। কিন্তু একজন নারী হিসেবেও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া উচিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে।

পরিবারের মূল্য বুঝে বিয়ের জন্য রাজি হওয়া: ২৫ বছর বয়সের আগে একজন মানুষের পক্ষে পরিবারের মূল্য কতখানি তা সঠিকভাবে বুঝে ওঠা সম্ভব হয় না। প্রমাণ পেতে আশেপাশেই একটু নজর বুলিয়ে দেখুন। সদ্য গ্র্যাজুয়েট একজন মানুষ নিজেকে বুঝতেই তো সময় পার করে দেন, তিনি পরিবার কি জিনিস তা বুঝবেন কীভাবে?

নিজের ভবিষ্যৎ ঠিক করে নিয়ে বিয়ের কথা ভাবা: ভবিষ্যতে কী করবেন, কোন লক্ষ্যে গিয়ে পৌঁছুবেন এবং সঠিক পথে হাঁটা শুরু করে তবেই বিয়ের কথা চিন্তা করা উচিত। তা না হলে লক্ষ্য ভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

নিজের জন্য সঠিক মানুষটি খুঁজে নেওয়া: ভালোবেসে কিংবা পারিবারিকভাবে যেভাবেই বিয়ে করুন না কেন সেটি হবে পুরো জীবনের একটি বন্ধন। সুতরাং ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। নিজের জন্য সঠিক মানুষ কোনজন তা বুঝতেও ম্যাচিউরিটির প্রয়োজন রয়েছে।

দায়িত্ব নিতে শিখে বিয়ের কথা ভাবা: ২৫ বছর বয়সের আগে ছাত্রজীবনে প্রায় সকলকেই একটু দায়সাড়া জীবনযাপন করতে দেখা যায়। তাই বিয়ের কথা ভাবার আগে দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টি শিখে নেয়া উচিত।

নিজেকে গুছিয়ে নিতে শিখে বিয়ে করা: বিয়ে কোনো ছেলেখেলা নয়। অনেক বড় একটি দায়িত্ব জড়িয়ে আছে এতে। বাবার বাড়ি, শ্বশুর বাড়ি এবং নিজের সংসার স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই ৩টি সংসার সামাল দিতে হবে। তাই প্রথমে নিজেকে একটু গুছিয়ে নিতে শেখা উচিত। আর এই গুছানো ২৫ বছরের পরেই দেখা যায় সকলের মধ্যে।