সাতক্ষীরায় পাট চাষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি, কৃষকের মাথায় হাত

বাংলাদেশের পাট সোনালী আঁশ নামে খ্যাত। এক সময় পাটের চাহিদা ছিল। ছিল যথাযথ ব্যবহার। পাট বা পাট জাতীয় পণ্যের কদর ছিল অন্যরকম।দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও এর চাহিদা ছিল গর্ব করার মতো। কিন্তু পাটের ব্যবহার হ্রাস পাওয়া এবং পাটের পরিবর্তে কম দামে প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কমতে থাকে পাটের দাম।

আদমজী জুট মিলসহ অনেক জুট ইন্ডস্ট্রিগুলো পর পর বন্ধ হতে থাকে। কৃষক লোকসানে পড়ে। দাম না পেয়ে চাষীরা পাট চাষ ব্যাপক হারে কমাতে শুরু করে। ঝুকে যায় অন্য ফসলের প্রতি। বার বার দাম কমতে থাকায় অনীহা সৃষ্টি হয় পাট চাষে। বর্তমান সরকার পাটের পূর্বের অবস্থা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করে। চাষীদের পাট চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করতে নতুন কৌশল হাতে নেওয়া হয়। শুরু হয় পাট চাষে প্রণদনা দেওয়া। সার, বীজ ও কীটনাশক দেওয়া। পাটের মুল্য বৃদ্ধি করা। পাটের বা পাটজাত পণ্যের দেশ বিদেশে চাহিদা সৃষ্টি করা। পাট দিয়ে নতুন পণ্যের আবিষ্কার করা। পাট বা পাট চাষ এবং পাট জাতীয় পণ্যের আধুনিকায়ন করা। এমনকি পাটের জিন আবিষ্কার করে বাংলাদেশ। এতোকিছুর পর পাট বা পাট জাতীয় পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি হতে থাকে। পাট চাষে আবারও শুরু হয় বিপ্লব। কিন্তু পাট ব্যবসায়ী ও দালাল চক্রের কারণে কৃষক নায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সাধারণত পাট চৈত্র মাসে বপন করা হয়।শ্রবণ ও ভাদ্র মাসে পাটের পরিপক্কতা আসে। এ সময় পাট কাটা হয়। পানিতে পঁচানো হয়। ধোয়ার পরে পাট শুকিয়ে বিক্রয়যোগ্য করে তোলা হয়। পাটখড়িও জ্বালানীসহ একাধিক কাজে ব্যবহার করা হয়। গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে,পাটের চেয়ে পাটখড়ির ব্যবহারিক চাহিদা বেশি। প্রতি বোঝা পাটখঢ়ির আঁটি ৩৫-৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের গৌরপদ রায় এ বছর দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি জানান, প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষে তার খরচ হয়েছে ১৪-১৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে ১০-১২ মন পাট পেতে পারে।কিন্তু একটি পাট ১২-১৩টি ধাপ(চাষ, বীজ বপন, নিড়ানী, ক্ষেত্র বিশেষ ভিজানো, কাটা, আঁটি বাঁধা, বহন করা, পঁচানো, ধোয়া, শুকানো, বিক্রয় করা) পেরিয়ে বিক্রয়য়োগ্য হয়। এতে চড়া দামে মজুরী খরচ দিতে হয়।সে তুলনায় পাটের যে বাজার দর তাতে চাষীদের পোশায় না।

সদর উপজেলার বাবুলিয়া বাজারের পাট ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ জানান, গত বছরের তুলনায় পাটের দাম অনেক কম।চলতি মৌসুমে উন্নতমানের প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ১৫৫০টাকা।নিন্মমানের পাট বিক্রি হচ্ছে ১৪৫০টাকা। গত বছর উন্নতমানের প্রতি মণ পাট বিক্রি হয়েছিল ২১০০ টাকা। নিন্মমানের পাট বিক্রি হয়েছিল ১৯০০ টাকা। তিনি আরো জানান, এ বছর পাট বিক্রেতার সংখ্যা কম আছে। একজন কৃষক অনেক পরিশ্রম করে পাট উৎপাদন করে। বর্তমান পাটের বাজার যে ভাবে চলছে তাতে পাট উৎপাদন কারীরা মোটেও সন্তুষ্ট নয়। জোন-মুজুর, সার কীটনাশকের যে দাম তাতে প্রতি মন পাট দুই হাজার টাকা হলে কৃষকের পরিশ্রম মোটামুটি সর্থক হতো।

গত বছরের তুলনায় জেলায় কমেছ পাট চাষ। জেলায় সাতটি উপজেলায় ১১ হাজার ৮’ শ ৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল।লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৪০ হাজার ১’শ ৮৬ বেল্ট। এ বছর পাট চাষ হয়েছে ১০ হাজার ৯’শ ৫৫ হেক্টর জমিতে।গতবছর ১১ হাজার ৩’শ ৫৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিল।লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়েছিল।কৃষি অফিস বলছে, পাট চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে না থাকার কারণে এ বছর ৪০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ কমেছে।সতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, জেলায় পাট চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে ছিল না। বাজারে পাটের দাম কৃষকের জন্য যথার্থ নয়। পাট বপনের সময় অনাবৃষ্টি ছিল। পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকারী ফসলের একটি। তবুও পাটের বাজার বিশৃংঙ্খলার কারণে অন্য ফসলের প্রতি ঝুকছে কৃষকেরা।

জেলার সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশী অর্থাৎ ৪ হাজার ৬ ‘শ ৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। কম চাষ হয়েছে শ্যামনগর উপজেলায় মাত্র ৩ হেক্টর জমিতে। কলারোয়ায় ৩২৭০ হেক্টর , তালায় ২৭৫০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ১২২ হেক্টর, দেবহাটায় ৮৫ হেক্টর, আশাশুনি ৭৪ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর