মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চকমিরপুর গ্রামে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী মিন্টু মিয়াকে গ্রেফতার করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ।সোমবার রাতে উপজেলার চকমিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সুত্রে জানাগেছে চকমিরপুর গ্রামের শামছুল হকের ছেলে মিন্টুর সঙ্গে বিয়ে হয় একই গ্রামের শুকুর আলীর মেয়ে রাহিমার। তাদের বিয়েতে ২০০৩ সালে নগদ এক লাখ ৪০ হাজার টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক লোভী স্বামী মিন্টু মিয়া আরও টাকার জন্যে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালায়। বাধ্য হয়ে এভাবে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকা স্ত্রী রাহিমা বেগম বাবার বাড়ি থেকে এনে স্বামীকে দেয়।
তারপরও থামেনি যৌতুক লোভী স্বামীর নির্যাতন। স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এর প্রতিবাদ করে স্ত্রী রাহিমা। প্রতিবাদ করার এক পর্যায়ে রাহিমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মিন্টু মিয়া তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে বাড়ির লোকজন উদ্ধার করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে মানিকগঞ্জ মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাহিমা মারা যায়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই জানান, তার ভগ্নিপতি যৌতুকের দাবিতে মাঝে মধ্যেই রাহিমাকে নির্যাতন করত। এভাবে এ পর্যন্ত প্রায় ১৪ লাখ টাকা আমাদের কাছ থেকে নিয়েছে। আমরা
যৌতুক লোভী ও হত্যাকারী এই পাষণ্ডের কঠিন শাস্তি ফাঁসি চাই।
এ ঘটনায় দৌলতপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ সুনীল কুমার জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে মিন্টুকে সোমবার রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। আর মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় রাহিমার শরীরে নির্যাতনের কিছু চিহ্ন পাওয়া গেছে। আর ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে পুরো বিষয়টি জানা যাবে।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি