নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলায় ৬ নং কাবিলপুর গ্রামের ৬ নং ওয়ার্ডে হাশেম সওদাগরের বাড়ির দরজায় অপরূপ সোন্দর্যের নিদর্শন হাক্কানী জামে মসজিদটি অবস্থিত।
সরেজমিনে গিয়ে তথ্য-উপাত্তে জানা যায় অত্র অঞ্চলের হাজার ১৩৮২ বাংলা সালের ৮ই ভাদ্র তারিখে পরলোকগত বিশিষ্ট ইসলামী সুফি সাধক হাক্কানী আলেম পীর বুজুর্গ শাহ সুফি রফিকুল ইসলাম এর সমাধি ক্ষেত্রের পাশে আশির দশকের প্রথম ছোট আকারের এই স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন এলাকাবাসী।
পরবর্তীতে দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি আবুল খায়ের কোম্পানির অর্থায়নে ২০০৭ সালে হাক্কানী জামে মসজিদটির ত্রি-তল বিশিষ্ট আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয় এবং ২০১০ সালে শেষ হয়। এতে চারটি বড় বড় মিনার ও তিনটি বড় গম্বুজ রয়েছে। উপরে নিচে সম্পূর্ণ টাইলস এ আচ্ছাদিত বিভিন্ন কারুকাজ খচিত মনোরম সৌন্দর্যের মসজিদটিতে একসাথে সহস্রাধীক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের দক্ষিণ পাশেই রয়েছে শাহ সুফি রফিকুল ইসলাম (রহ.) এর মাজার শরীফ।মসজিদ নির্মাণ প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা যায়।
মসজিদের পশ্চিমে ও উত্তর এ রয়েছে হাশেম সওদাগর বাড়ির দুইটি পুরনো পুকুর। সামনে পূর্ব-দক্ষিণে ঈদ গাহ মাঠ রয়েছে। ৫তলা বিশিষ্ট একটি নূরানী হেফজ খানা। সেখানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন আরবি শিক্ষা গ্রহণ করেছে। এর অদূরে পূর্ব উত্তরে এতিম বালক শিক্ষার্থীদের খাওয়ার ডাইনিং রুম রান্নাঘর। জুমার নামাজের সময় মসজিদে নামাজ আদায় করতে এবং পীর সাহেবের সমাধীক্ষেত্রে দোয়া ও মোনাজাতের উদ্দশ্যে উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিগন ছুটে আসেন। একই দিন আবুল খায়ের কোম্পানির পক্ষ থেকে মসজিদ ও মাজারের বিশেষ মুনাজাত এবং লিল্লাহ খানার আয়োজন করে থাকেন।
সোন্দর্য কারুকাজ এর দিক দিয়ে সেনবাগ কাবিলপুর হাক্কানী জামে মসজিদটি বর্তমানে বূহত্তর নোয়াখালী এবং বলা হয় চট্টগ্রাম বিভাগে দর্শনীয় অন্যতম একটি মসজিদ স্থান দখল করে আছে।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি