কোম্পানীগঞ্জে নারী কর্তৃক ইউপি চেয়ারম্যান লাঞ্চিত, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অন্যায় দাবী রক্ষা না করায় নারী কর্তৃক চরকাঁকড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী মোঃ সফি উল্যাহকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার দুপুর ২টায় উপজেলার ৪নং চরকাঁকড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের কক্ষে।

অপরদিকে ঐ নারীর অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যান তাকে আটকে রেখে মারধর করেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অপরদিকে ঘটনার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষরিত একটি রেজুলেশন কপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দেয়া হয়েছে।

সরেজমিন চরকাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চেয়ারম্যান ও পরিষদের সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, একই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের নূর মিয়া মেস্তরী বাড়ির আনিছুল হকের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন রিমি (২০) তার সাবেক স্বামী এবং চরকাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মোঃ রিয়াদ হোসেনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মোঃ সফি উল্যাকে নির্দেশ দেয়।

চেয়ারম্যান তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার পূর্বেই ১৫ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুরে রিমি ইউপি চেয়ারম্যানের কক্ষে গিয়ে তার নিজের লেখা একটি প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করার জন্য বলে। কিন্তু চেয়ারম্যান তদন্ত করে পরিষদের নিজস্ব প্যাডে লিখে প্রতিবেদন দেবেন বলে জানালে রিমি চেয়ারম্যানের ওপর ক্ষুব্দ হয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। এসময় চেয়ারম্যান তাকে শান্ত করতে না পেরে ধমক দিয়ে অফিস থেকে বের হওয়ার জন্য বললে রিমি তার হাতে থাকা ভ্যানেটি ব্যাগ চেয়ারম্যানের মুখে ছুড়ে মারে। এসময় পরিষদের অধিকাংশ মেম্বার উপস্থিত ছিলেন।

রিমির এমন ঔদ্যত্যপূর্ণ আচরনে হতভম্ব হয়ে মেম্বারগণ ও উপস্থিত লোকজন উচ্ছৃংখল রিমিকে চেয়ারম্যানের কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় দরজার সাথে ধাক্কা খেয়ে রিমি মুখে জখম প্রাপ্ত হয়। এ ঘটনায় চরকাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সফি উল্যাহ (৭০), পরিষদের সকল সদস্য ও সেবা নিতে আশা লোকজনের সম্মুখে অশোভন আচরণের বিষয়ে রিমি ও তার মা লাকি বেগমের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই দিন একই বিষয়ে সাবিনা ইয়াসমিন রিমিও ঘটনাস্থল ত্যাগ করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় এসে চেয়ারম্যান মো: সফি উল্যাহ, পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মো: রিয়াদ হোসেন ও পরিষদের দফাদার আব্দুর রবের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

মূলত সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে পরিষদের উদ্যোক্তা রিয়াদ হোসেনের সাথে অবৈধ সম্পর্ক ও ৩-৪ মাসের অন্তঃসত্তা হয়। এ বিষয়ে সামাজিক শালিশ হলে সামাজিক ভাবে উভয়ের সিদ্ধান্তে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক তাদের বিয়ে হয়। কয়েক মাস পর রিমি বসুরহাট হাসপাতালে পুত্র সন্তানের মা হয়। দীর্ঘদিন যাবত ছেলেও স্ত্রীর ভরন-পোষণ দিলেও একটি সময় টাকা-পয়সা দেয়া বন্ধ করে দেয় রিয়াদ। এতে আবারও ক্ষুব্দ হয়ে রিমি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম্য আদালতে নালিশ দেয়। গ্রাম্য আদালত বসে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ২লাখ ৮০হাজার টাকায় সমাধান হয়। পরে রিমি ওই বিচার না মেনে পরবর্তীতে সে নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে রিয়াদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে (মামলা নং-১০৬/১৮, তাং-২৯/০১/১৮)। মামলায় রিয়াদ গ্রেফতার হয়। বর্তমানে রিয়াদ জামিনে রয়েছে। এ নিয়ে রিমি প্রায় সময় ইউনিয়ন পরিষদে এসে রিয়াদকে পরিষদ থেকে বের করে দেয়ার জন্য চেয়ারম্যানের উপর চাপ সৃষ্টি করত। কিন্তু বিষয়টি চেয়ারম্যানের একতিয়ারে ছিলনা বিধায় তিনি তা করেননি। তাই রিমি চেয়ারম্যানকে অপমান করার জন্যই রবিবার এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন, আলা উদ্দিন ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য হাজেরা আক্তার নাজলী জানান, সাবিনা ইয়াসমিন রিমি চেয়ারম্যানের কাছে একটি অন্যায় দাবী নিয়ে আসে। কিন্তু চেয়ারম্যান ওই দাবী রক্ষা না করায় রিমি তার হাতে থাকা ভ্যানেটি ব্যাগ চেয়ারম্যানের মুখে ছুঁড়ে মারে এবং চেয়ারম্যানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাচ করে। তবে চেয়ারম্যান তাকে কোন প্রকার মারধর করেনি বলেও তারা জানান।

সরে জমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ১ জুলাই’১৯ তারিখে সাবিনা ইয়াসমিন রিমি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে তথ্য সেবা কেন্দ্রের ল্যাপটপ ও কম্পিউটারসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এ ঘটনায় তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মোঃ রিয়াদ হোসেন কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে (ডায়রী নং-১৮, তাং-০১/০৭/২০১৯ইং)।

ঘটনার বিষয়ে চরকাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোঃ সফি উল্যাহ জানান, আমি বয়োবৃদ্ধ মানুষ। মেয়েটি আমার অফিসে এসে অনৈতিক একটি দাবী করে তাতে আমার সম্মতি না পাওয়ায় লোকজনের সামনে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে এবং আমার গায়ে ভ্যানেটি ব্যাগ ছুঁড়ে মেরেছে। তার এমন আচরনে আমি হতভম্ব হয়ে যাই। তবে তিনি মেয়েটিকে কোন প্রকার মারধর বা আটকে রাখেননি বলে জানান। ঘটনার বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান।

ঘটনার বিষয়ে সাবিনা ইয়াসমিন রিমি জানান, চেয়ারম্যান তাকে শারীরিক নির্যাতন করে পরিষদের একটি কক্ষে ৪ ঘন্টা আটকে রেখেছিল। তবে কেন নির্যাতন করেছে এ বিষয়ে রিমি বিস্তারিত জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আরিফুর রহমান জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর