দুদকের সঙ্গে মার্কিন আইন উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের আবাসিক আইন উপদেষ্টা রিক অপেঙ্গা। সোমবার দুদক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও এফবিআইয়ের সঙ্গে দুদকের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান এদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ প্রত্যার্পণ ও কমিশনের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে।

তিনি বলেন, দুদক এফবিআইয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। কমিশন প্রত্যাশা করে, দুর্নীতি-সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত বিশেষ করে মানিলন্ডারিং, সাইবার অপরাধ, আর্থিক লেনদেনের তদন্তের ক্ষেত্রে ফরেনসিক অ্যানালাইসিস, ট্রেড বেজড মানিলন্ডারিং, অপরাধীদের জিজ্ঞাসাবাদের কৌশল, সম্পদ পুনরুদ্ধার, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত আর্থিক অপরাধ, মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স, তথ্য বিনিময়সহ বিভিন্ন ইস্যুতে মার্কিন বিচার বিভাগের সঙ্গে পারাস্পরিক সহযোগিতা আরও বিকশিত হবে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ নিলে হবে না, প্রতিটি প্রশিক্ষণ হতে হবে তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক জ্ঞানের সংমিশ্রণ। দেশীয় ও বিদেশি জ্ঞানের সংমিশ্রণে যে প্রশিক্ষণ কর্মকর্তারা গ্রহণ করবেন, তার বাস্তব প্রয়োগ নিজ কর্মে প্রতিফলন ঘটাতে হবে। বাংলাদেশে সংঘটিত দুর্নীতি-সংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অপরাধের মিল রয়েছে, সেসব বিষয়ে কমিশনের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, কেউ যদি আমেরিকায় অর্থ উপার্জন করে গাড়ি-বাড়িসহ সম্পদ গড়ে তোলেন- সে বিষয়ে দুদকের কোনো মাথাব্যথা নেই। তবে বাংলাদেশ থেকে কেউ যদি অবৈধভাবে অর্থপাচার করে আমেরিকা বা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে সম্পদ তৈরি করে সেটা দুদক আইনের আওতাভুক্ত অপরাধ।

এসব অর্থপাচারকারীদের আইন-আমলে আনতে তিনি এফবিআইসহ সকল দেশের এ জাতীয় সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেন।

মার্কিন আইন উপদেষ্টা রিক অপেঙ্গা দুর্নীতি দমন কমিশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের ভূংয়সী প্রশংসা করেন। তিনি কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন-১০৬ ও তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত, প্রতিরোধ অনুবিভাগের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ, আইসিটি ও প্রশিক্ষণ অনুবিভাগের মহাপরিচালক একেএম সোহেল প্রমুখ।

বার্তাবাজার/এম.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর