মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা, সব অভিযুক্তকে মুক্তি দিল পুলিশ!

পাঠক, আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে এমন একটি হত্যাকাণ্ডের কথা, যে হত্যার ভিডিওটি চাউর হওয়ার পর বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছিল, প্রতিবাদের ঝর উঠেছিল চতুর্দিকে।অথচ সেটি নাকি হত্যা নয়, হার্ট অ্যাটাক! ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় গত জুন মাসে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে সরাইকেলা খারসাওন এলাকায় তবরেজ আনসারি নামে এক মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে উগ্রপন্থী হিন্দুরা।

তাবরিজকে হত্যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝর উঠেছিল। এবার নতুন করে শোরগোল ফেলে দিলো তবরেজের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, পণপিটুনি নয়, হার্ট অ্যাটাকে মারা গিয়েছিলেন ২৪ বছরের ওই যুবক। আর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের উপর থেকে হত্যার অভিযোগ তুলে নেয়া হয়েছে।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানায়, তবরেজকে গণপিটুনি দেয়ার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ভারতজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। অভিযুক্তদের উপর থেকে হত্যার অভিযোগ সরিয়ে নেয়ার ঘটনা যেন চাপা পড়ে থাকা সেই বিতর্কের আগুন নতুন করে উস্কে দিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ঝাড়খণ্ডের পুলিশকর্তা কার্তিক এস বলেন, ‘মেডিক্যাল রিপোর্টে খুনের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। যার ফলে আমরা খুন কেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলাও চালাতে পারব না। খুনের মতো অনিচ্ছাকৃত খুনও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

ঝাড়খণ্ড পুলিশ সূত্রে খবর, দু’টি পৃথক ময়নাতদন্ত রিপোর্টেই একই জিনিস পাওয়া গেছে। কার্তিক আরো বলেন, ‘প্রথম বার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা দ্বিতীয় বার আরো উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের থেকে মতামত নিই। তারাও সেই একই মত দিয়েছেন।’

অথচ, তবরেজের পরিবারের অভিযোগ, পিটিয়ে তার মাথা থেঁতলে দেয়া হয়েছিল। যা বিশ্বব্যাপী দেখেছে। অবশ্য পুলিশকর্তাদের দাবি, মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ীই তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন।

গত ১৮ জুন গণপিটুনির শিকার হন তবরেজ। কয়েক ঘণ্টা ধরে তাকে মারধর করা হয়। জোর করে জয় শ্রীরাম স্লোগান দেয়ানোর অভিযোগও ওঠে। সেই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। ২২ জুন হাসপাতালে মারা যান তিনি। ওই কাণ্ডে প্রাথমিকভাবে ১১ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। পরে এক জন আত্মসমর্পণ করেন।আর সেই মামলা থেকে অভিযুক্তদের মুক্ত করে দেয় ভারতীয় পুলিশ।

বার্তাবাজার/এএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর