২২, অক্টোবর, ২০১৮, সোমবার | | ১১ সফর ১৪৪০

ঐক্য থেকে বাদ বাপ-বেটা ভাঙছে বিকল্পধারা!

আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৮

ঐক্য থেকে বাদ বাপ-বেটা ভাঙছে বিকল্পধারা!

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া প্লাটফর্মে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও তার ছেলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরীকে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে শনিবার (১৩ অক্টোবর) সকালে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, বি. চৌধুরী ও মাহি বি. চৌধুরীর সঙ্গে সরকারের আঁতাত রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে তাদের বিশ্বাস করা যায় না। এ কারণে তাদের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া না হওয়ার বিষয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে বিকল্পধারায়। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জেলার নেতারা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর ফলে বিকল্পধারায় ভাঙনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিকল্পধারার সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ আলম বাদল বলেন, ‘বি. চৌধুরী ও মাহি বি. চৌধুরী মিলে যা করছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিকল্পধারা থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারাও আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। আমরা একমত আছি।’

গতকাল সকালে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে শুরু হওয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

বৈঠকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আন্দোলনের অংশ হিসেব সারাদেশে বিক্ষাভ; নির্বাচন কমিশন ঘেরাও ও সরকারকে আলটিমেটাম দিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ; রাষ্ট্রপতি, নিবার্চন কমিশন ও প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়ার মতো বেশকিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কয়েকজন নেতা জানান, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিকল্পধারা থাকছে কি না, সে বিষয়েও চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার একাধিক নেতা বলেন, ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন ও ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ একাধিক নেতা এই আন্দোলন প্রক্রিয়ায় বিকল্পধারা সভাপতি বি. চৌধুরী ও দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরীকে না রাখার পক্ষে মত দেন। এই দু’জন ভিন্ন কৌশলে চলছেন বলে মনে করছেন তারা।
এছাড়া সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় আন্দোলনে শেষ পর্যন্ত ড. বি চৌধুরী ও মাহী বি. চৌধুরী থাকছেন কি না,- এমন প্রশ্নের জবাবে ঐক্যের অন্যতম নেতা জগলুল আফরিদ বলেন, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না।

ড. কামালের বাসা থেকে ফিরে গেলেন তারা : জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বাসা গতকাল বিকেলে বন্ধ পেয়ে ফিরে যান সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং তার ছেলে ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাহী।

জানা গেছে, গতকাল বিকেলে ড. কামালের বাসায় বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বিকল্পধারা বাংলাদেশের শীর্ষ দুই নেতাকে। সেই বৈঠকে যোগ দিতেই ড. কামাল হোসেনের বাসায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এসেছিলেন অধ্যাপক বি. চৌধুরী ও মাহী বি. চৌধুরী। কিন্তু তারা বেইলি রোডের বাসাটিতে পৌঁছালে কেউ তাদের অভ্যর্থনা জানাতে আসেননি। বাসাও বন্ধ ছিল। পরে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে ড. কামালের বাসা থেকে ফিরে যান বি. চৌধুরী ও মাহী বি. চৌধুরী।

এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে মাহী বি. চৌধুরী বলেন, আমরা এখন চ‚ড়ান্ত একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব এবং তারপর আমরা বারিধারাতে আমাদের অফিসে ব্রিফিং করব। আমরা মনে করি, এই ঐক্যটা না হওয়ার পেছনে কাদের ষড়যন্ত্র আছে, এটা আজ জাতির সামনে পরিষ্কার হয়ে গেল। বি. চৌধুরী একজন শীর্ষ নেতা হওয়ার পরও আজ তিনি নিজে ড. কামাল হোসেনের বাসায় এলেন, তাকে আমন্ত্রণ জানানো হলো; অথচ বাড়ির দরজা খোলার মতো কোনো লোক নেই। এটা কোনো রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। ভদ্রতার ভেতরে পড়ে না।

কোন ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিকল্পধারার মতবিরোধ ছিল, জানতে চাইলে মাহী বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে যেগুলোর কথা বলেছি, সেগুলোই আমাদের ইস্যু। ব্রিফিংয়ে আমরা সেগুলো পরিষ্কার করব।’ বিকল্পধারার একটি বৈঠক হবে এবং সেই বৈঠকেই সবকিছু চ‚ড়ান্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

মাহী আরও বলেন, গণফোরামকে নিয়েও অনেকের সমস্যা ছিল। অনেক আলোচনার পর ঐক্যের কথা মাথায় রেখে বৃহত্তর স্বার্থে তাদের সঙ্গে রেখেছি, নাগরিক ঐক্যকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা সবদিক থেকেই ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আজ জাতির প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য ঐক্য প্রক্রিয়াকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছি।

কিন্তু কোনো একটি মহল চায় না ঐক্যটা হোক। তারা কারা এবং কেন তারা ঐক্য চায় না, আজ আস্তে আস্তে বোধহয় বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। সত্য আসলে চাপা থাকে না। কারা ঐক্য চাচ্ছে না এবং কেন চাচ্ছে না, সেটাও আজ পরিষ্কার হয়ে গেল, যোগ করেন মাহি বি. চৌধুরী।